একপাশে ত্রাণবোঝাই লরি, অন্য পাশে ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনী

13

কলম্বিয়ার ভেনেজুয়েলা সীমান্তবর্তী শহর কুকুতায় প্রথম ধাপের মার্কিন ত্রাণ পৌঁছানোর খবর নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। তবে এখনও ভেনেজুয়েলায় প্রবেশমুখী তিয়েনদিতাস সেতু সেনাবাহিনী বন্ধ করে রাখায় সেখানেই আটকে আছে ত্রাণবাহী লরিগুলো। নির্বাচনি কারচুপির অভিযোগ আর অর্থনৈতিক সংকট ভেনেজুয়েলার জনগণকে তাড়িত করেছে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে। বিক্ষোভের সুযোগে ২৩ জানুয়ারি নিজেকে অন্তর্র্বতীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন বিরোধীদলীয় নেতা জুয়ান গুইদো। ২৩ জানুয়ারি (রবিবার) পশ্চিম-সমর্থিত গুইডো ঘোষণা দেন, ভেনেজুয়েলিয়ানদের সহায়তা দেওয়ার জন্য তিনি আন্তর্জাতিক ‘ত্রাণ সহযোগীদের’ নেটওয়ার্ক বানাবেন। তার অনুরোধে ভেনেজুয়েলার জন্য ত্রাণ পাঠানোর কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ভেনেজুয়েলার এক ক্যাথলিক সংস্থা রয়টার্সের কাছে দাবি করেছে, কলম্বিয়া-কানাডা আর জার্মানির বিভিন্ন ভেনেজুয়েলান কোম্পানি থেকেও ত্রাণ আসছে। তবে ত্রাণ প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ত্রাণবাহী লরিগুলো এখনও সীমান্তের বাইরে আটকে আছে। গত বৃহস্পতিবার পৌঁছানো ওই লরিগুলোতে খাবার ও ওষুধ রয়েছে। কলম্বিয়ান পুলিশ মোটরসাইকেলে করে সেগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে ভেনেজুয়েলা পর্যন্ত নিয়ে যায়। তবে সীমান্ত থেকে ত্রাণগুলো কিভাবে ভেনেজুয়েলানদের কাছে পৌঁছাবে সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানা যায়নি। এর আগেই ওই সেতুর সামনে কার্গো কন্টেইনার দিয়ে পথ আটকে রেখেছে সেনাবাহিনী। এটাই কলম্বয়ার কুকুতা ও ভেনেজুয়েলার উরেনা শহরের সংযোগপথ। নিকোলাস মাদুরো বারবারই ত্রাণ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তাকে ‘সম্মানহানি’র প্রচেষ্টা আখ্যা দিয়ে তিনি বলেছেন, ভেনেজুয়েলার মানুষ ভিক্ষুক নয়। এছাড়া এই পথ খুলে দিলে মার্কিন সোনাবাহিনী তাকে উৎখাত করার চেষ্টা করবে বলেও দাবি করেন তিনি। মাদুরো বলেন, ‘কেউ প্রবেশ করবে না, কেউই আগ্রাসন চালাতে পারবে না।’ এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ভেনেজুয়েলাকে সীমান্ত খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মাদুরা সরকারকে অবশ্যই না খেয়ে থাকা মানুষের কথা ভাবতে হবে। ভেনেজুয়েলার বেশ কয়েকজন নেতাও ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।