এই মৌসুমটা মেসির দুর্দান্ত কাটবে : কোচ

6

প্যারিসে অভিষেক মৌসুমে লিওনেল মেসির নিজের ছায়া থাকা নিয়ে ঢের আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। এমনকি আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডকে শুনতে হয়েছে ক্লাব সমর্থকদের দুয়োও। নতুন মৌসুমে মেসি প্রত্যাশার প্রতিদান কতটা দিতে পারবেন, তা সময়ই বলে দেবে। তবে পিএসজি কোচ ক্রিস্তফ গালতিয়েরের বিশ্বাস, এ মৌসুমটা দুর্দান্ত কাটবে মেসির। গালতিয়েরের এমনটা মনে হওয়ার কারণও আছে। এরইমধ্যে মেসির জ¦লে ওঠার আভাস মিলতে শুরু করেছে। মৌসুমে প্রথম দুই প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে মাঠে নেমে দুটিতেই আলো ঝলমলে পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে ‘বার্সেলোনার মেসি’র মতো ‘পিএসজির মেসি’ হয়ে ওঠার ইঙ্গিত আর্জেন্টাইন তারকার পায়ে। প্রাক-মৌসুমের প্রায় পুরোটা সময় দলের সঙ্গে থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পর গত সপ্তাহে প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে মাঠে নামেন মেসি।

ফরাসি সুপার কাপে নঁতকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার ম্যাচে দারুণ খেলে শুরুতে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। এরপর শনিবার রাতে লিগ ওয়ানে শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরুর ম্যাচে ক্লেহমোঁকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পথে দুটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থের গোলেও অবদান রাখেন তিনি। এর মাঝে দলের শেষ গোলটি তিনি করেন নজরকাড়া ওভারহেড কিকে। এই দুই ম্যাচেই পুরো ৯০ মিনিটে মেসির পারফরম্যান্স ছিল চমৎকার। ক্লেহমোঁ ম্যাচের পর পিএসজি কোচ গালতিয়ে আশা প্রকাশ করলেন, সাতবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এবার ফিরবে স্বরূপে। “গত মৌসুমটা তার কিছুটা কঠিন কেটেছিল, নতুন পরিবেশে তার জন্য মানিয়ে নেওয়ার বিষয় ছিল। তার মাঠের পারফরম্যান্সেও অনেক পার্থক্য চোখে পড়েছিল, কেননা, এর আগে প্রতি মৌসুমে অন্তত সে ৩০টি করে গোল করত।” ইচ্ছার বিরুদ্ধে বার্সেলোনা ছেড়ে গত বছরের অগাস্টে পিএসজিতে পাড়ি দেন মেসি।

প্রথমে বার্সেলোনার সঙ্গে নতুন চুক্তির প্রক্রিয়া এবং পরে দলবদলের জটিলতা নিয়ে সেবার প্রাক-মৌসুমে কোনো প্রস্তুতিই নিতে পারেননি তিনি। সঙ্গে নেইমার ও কিলিয়ান এমবাপের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ব্যাপারও ছিল। সব মিলিয়ে মৌসুম জুড়ে ধুঁকতে দেখা যায় মেসিকে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে করতে পারেন মাত্র ১১ গোল। সেখানে এবার প্রথম দুই ম্যাচেই পেয়ে গেলেন তিন গোল। গালতিয়ের আশাবাদী হওয়ার এটাও বড় কারণ। পিএসজিতে সাবেক কোচ মাওরিসিও পচেত্তিনোর উত্তরসূরির হিসেবে গত মাসে দায়িত্ব নেওয়া গালতিয়ে প্রাক-মৌসুম চলাকালে মেসির সঙ্গে খোলাখুলি আলাপ করেছিলেন বলেও জানালেন।

“জাপান সফরের সময় লিওর সঙ্গে এবং আক্রমণভাগের অন্য খেলোয়াড়দের সঙ্গেও আমি কথা বলেছিলাম এটা নিশ্চিত করতে যেন সবসময় সে (মেসি) পারফর্ম করতে পারে।” “লিওর ট্যাকটিক্যাল বিষয়গুলো খুব ধারালো, খুব পরিষ্কার। সে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন, দ্রুত বুঝতে পারে যে তাকে মাঠে কোন জায়গায় যেতে হবে। যেভাবে ডিফেন্ড করে, যেভাবে অন্যান্যের সঙ্গে খেলতে নিজের অবস্থান ঠিক করেৃঠিক সময়ে সে সঠিক জায়গায় থাকতে পারে এবং তার আশপাশে থাকা সতীর্থদের নিয়ে খেলতে পছন্দ করে। আর সবকিছু এভাবে এগোলে, লিও হাসলে দলের মুখেও হাসি ফুটবে।“ পিএসজি পরের ম্যাচ খেলবে আগামী সপ্তাহে, লিগ ওয়ানে মঁপেলিয়ের বিপক্ষে।