উন্নয়ন প্রকল্পের মালামাল নিয়ে মংলায় ৩ জাহাজ

5

বঙ্গবন্ধু রেলওয়ে ব্রিজের স্টিল পাইপ ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মেশিনারিজ মালামাল নিয়ে তিনটি বিদেশী জাহাজ মংলায় এসে পৌঁছেছে।
রবিবার সকালে ও দুপুরে বন্দরের ৭ নম্বর জেটিতে বঙ্গবন্ধু রেলওয়ে ব্রিজের ৩৩৫২ দশমিক ৩৮৯ মেট্রিক টন স্টিল পাইপ নিয়ে নোঙর করে পানামা পতাকাবাহী ‘এমভি কুই ইয়া শান’ জাহাজ। একই সময়ে বন্দরের ৮ নম্বর জেটিতে পানামা পতাকাবাহীর ‘লিবার্টি হারভেস্ট’ নামে আরেকটি জাহাজ নোঙর করে। এই জাহাজে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৪৭১৬ দশমিক ০২৬ মেট্রিক টন মেশিনারিজ পণ্য আনা হয়েছে। একই দিন দুপুরে বন্দরের ৯ নম্বর জেটিতে নোঙর করেছে রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মেশিনারি পণ্য নিয়ে রুশ পতাকাবাহী ‘এমভি কামিল্লা জাহাজ’। ৩৬৩৩ মেট্রিক টন পণ্য নিয়ে জাহাজটি নোঙর করে।
মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার বিভাগ এই তথ্য জানায়।
বিদেশী জাহাজ এমভি কুই ইয়া শান জাহাজের শিপিং এজেন্ট হক অ্যান্ড সন্সের খুলনার শিপিং এজেন্ট থাকা শওকত আলী বলেন, ‘২৩৮ প্যাকেজে ৩৩৫২ মেট্রিক টন পণ্য নিয়ে সকালে জাহাজটি নোঙর করে। পরে সেসব পণ্য খালাস প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ পর্যন্ত তাদের অধীনে ১৩টি জাহাজে করে ২ হাজার ৫৬০ প্যাকেজের ৪৬ হাজার ৩৫১ মেট্রিক টন স্টিল পাইপ আনা হয়েছে।’
অন্যদিকে, রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মেশিনারি পণ্য নিয়ে আসা বিদেশি জাহাজ ‘লিবার্টি হারভেস্টের’ শিপিং এজেন্ট ইন্টারপের্টের পরিচালক শাহীন ইকবাল জানান, রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালামাল নিয়ে রবিবার সকালে বন্দরের ৮ নম্বর জেটিতে নোঙর করার পর জাহাজ থেকে পণ্য খালাস শুরু হয়েছে। চার দিনের মধ্যে এসব পণ্য পুরোপুরি খালাস হওয়ার পর সেগুলো সড়ক ও নৌপথে পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হবে। এই জাহাজে ১৪ হাজার ৪৭৫ প্যাকেজের ৪১৬ মেট্রিক টন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মেশিনারি পণ্য আনা হয়েছে।’
এ দিন দুপুর ২টার দিকে রুশ পতাকাবাহী ‘এমভি কামিল্লা’ জাহাজে করে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৫ হাজার ৫০৬ প্যাকেজের ৩৬৩৩ মেট্রিক টন পণ্য আনা হয়েছে বলে জানান এই জাহাজের শিপিং এজেন্ট কনভেয়ার শিপিং লাইন্সের ম্যানেজার অপারেশন সাধন কুমার চক্রবর্তী।
মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মুসা বলেন, দেশের নির্মাণাধীন প্রায় সব প্রকল্পের মালামাল এখন বিশেষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মংলা বন্দর দিয়ে খালাস হচ্ছে। দ্রুত সময়ে আধুনিক পদ্ধতিতে দক্ষ জনবল দিয়ে এসব পণ্য খালাস হওয়ায় ব্যবসায়ীরা এই বন্দর ব্যবহারে আগ্রহী হচ্ছেন।