উইন্ডিজকে হারিয়ে এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া

4

দুই দলের স্কোর তখন সমান। শামার জোসেফের শর্ট বল ঠিক মতো খেলতে পারলেন না উসমান খাওয়াজা। শেষ মুহূর্তে চোখ সরিয়ে নেওয়ায় বল ছোবল দিল হেলমেটে। এরপর স্বাভাবিক হতে পারছিলেন না অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার। মুখ থেকে একটু রক্তও বের হলো, সম্ভবত জিহবা কেটে যাওয়ায়। মাঠ ছেড়ে যেতে তিনি বাধ্য হলেন। তৃতীয় দিনে যা একটু উত্তেজনা ছড়াল তখনই। ম্যাচের ভাগ্য তো গড়া হয়ে গিয়েছিল আগের দিনই। আনুষ্ঠানিকতার তৃতীয় দিনে কোনোরকমে ইনিংস পরাজয় এড়াতে পারল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১০ উইকেটের জয়ে প্রত্যাশিতভাবেই সিরিজে এগিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া।

৬ উইকেটে ৭৩ রান নিয়ে দিন শুরু করা ক্যারিবিয়ানদের ইনিংস গুটিয়ে যায় ১২০ রানে। সহজ রান তাড়ায় অস্ট্রেলিয়ায় হারায়নি কোনো উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৫ রানে ৫ উইকেটসহ ম্যাচে ¯্রফে ৭৯ রানে ৯ উইকেট নিয়েছেন জশ হোজেলউড। এক টেস্ট ম্যাচে যা তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। তবে বোলারদের দাপটের ম্যাচেও আগ্রাসী এক সেঞ্চুরিতে ম্যান অব দা ম্যাচ ট্রাভিস হেড। হেইজেলউডের দুর্দান্ত স্পেলে আগের দিনই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তৃতীয় তিন সকালও তাদের শুরু হয় বড় ধাক্কা খেয়ে। শেষ স্বীকৃত ব্যাটসম্যান জশুয়া দা সিলভা বিদায় নেন দ্রুতই। ১৮ রান করা কিপার-ব্যাটসম্যানকে শর্ট বলে ফেরান মিচেল স্টার্ক। ইনিংস পরাজয় এড়াতে তখনও ১১ রান লাগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের, উইকেট বাকি ৩টি। লোয়ার অর্ডাররা অবশ্য সেই ব্যবধান ঘুচিয়ে দেয়। তবে বেশি দূর যেতে পারেননি তারাও।

স্টার্কের শিকার হয়ে ফেরেন ১৬ রান করা আলজারি জোসেফ। হেইজেলউডের বল ছেড়ে দিয়ে বোল্ড হয় গুডাকেশ মোটি। টেস্ট ক্যারিয়ারে একাদশ ৫ উইকেট পূর্ণ করেন এই পেসার। প্রথম ইনিংসের মতো এবারও শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিজে গিয়ে কিছুটা বিনোদনের খোরাক জোগান শামার জোসেফ। ম্যাচের সেরা বোলার হেইজেলউডের বলে তিনটি চার মারেন তিনি। এই পরিক্রমায় ম্যাচে ৫০ রানও স্পর্শ করেন গায়ানার গহিন গ্রাম থেকে উঠে আসা অভিষিক্ত এই ক্রিকেটার। এর আগে তো বল হাতেও তিনি নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। টেস্ট ইতিহাসে অভিষেকে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৫০ রান ও ৫ উইকেটের ‘ডাবল’ কীর্তি গড়া চতুর্দশ ক্রিকেটার শামার। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে তিনিই প্রথম।

প্রথম ইনিংসে শেষ জুটিতে কিমার রোচ ও শামার জোসেফের ৫৫ রানের জুটি অবিশ্বাস্যভাবে গোটা ম্যাচেরই সেরা জুটি। দ্বিতীয় ইনিংসেও তাদের জুটির ২৬ রানের সৌজন্যে ১২০ পর্যন্ত যেতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শেষ জুটির প্রতিটি রান তুমুল করতালিতে অভিনন্দন জানান গ্যালারির দর্শকেরা। প্রথম ইনিংসের মতোই শামারকে ফিরিয়ে ইনিংসের ইতি টানেন ন্যাথান লায়ন। ২৬ রানের লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়া পৌঁছে যায় অনায়াসেই। ওপেনিংয়ে প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ১১ রানে অপরাজিত থাকেন স্মিথ। খাওয়াজার ওই চোটের পর কাজ শেষ করেন মার্নাস লাবুশেন। সব মিলিয়ে তৃতীয় তিনে খেলা হয়নি ২০ ওভারও। ম্যাচ শেষ লাঞ্চের বেশ আগেই। এরকম কিছু অবশ্য অনুমিতই ছিল। তবু অ্যাডিলেইডের গ্যালারিতে দিনের শুরুতে ছিল ১১ হাজারের বেশি দর্শক। খেলা শেষ হতে হতে তা প্রায় ১৭ হাজারে পৌঁছায়। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট সংস্কৃতিকেই ফুটিয়ে তোলে তা। সিরিজের শেষ টেস্ট শুরু আগামী বৃহস্পতিবার, ব্রিজবেনে দিন-রাতের টেস্ট ম্যাচ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ১৮৮
অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ২৮৩
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২য় ইনিংস: ৩৫.২ ওভারে ১২০ (আগের দিন ৭৩/৬) (জসুয়া ১৮, আলজারি ১৬, মোটি ৩, রোচ ১১*, শামার ১৫; স্টার্ক ১০-২-৪৬-২, হেইজেলউড ১৪-৬-৩৫-৫, কামিন্স ৫-১-২৫-০, লায়ন ৩.২-০-৪-২, গ্রিন ৩-০-৯-১)।
অস্ট্রেলিয়া ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ২৬) ৬.৪ ওভারে ২৬/০ (স্মিথ ১১*, খাওয়াজা রিটায়ার্ড হার্ট ৯, লাবুশেন ১*; রোচ ২-০-৬-০, আলজারি ৩-০-১২-০, শামার ১.৪-০-৭-০)।
ফল: অস্ট্রেলিয়া ১০ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ: দুই ম্যাচ সিরিজে অস্ট্রেলিয়া ১-০তে এগিয়ে।
ম্যান অব দা ম্যাচ: ট্রাভিস হেড।