ইয়েমেনে কারাগারে বিমান হামলায় বহু নিহত

134

03 ইয়েমেনের একটি কারাগারে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন আরব জোট বাহিনীর বিমান হামলায় বহু লোক নিহত হয়েছেন। গত শনিবার দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় বন্দর শহর হুদেইদাহর আল জায়িদিয়ায় একটি নিরাপত্তা দপ্তরে হামলাটি চালানো হয় বলে জানিয়েছে বিবিসি। ওই দপ্তরের একটি ভবন কারাগার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। জোট বাহিনীর বোমা এই ভবনটিতে আঘাত করে বলে জানিয়েছেন নিরাপত্তা ও চিকিৎসা কর্মকর্তারা। ওই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এতে ৩০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্েয বিদ্রোহীদের পাশাপাশি কারাবন্দিরাও রয়েছেন।হুতি নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম নিহতের সংখ্যা ৪৩ জন বলে জানিয়েছে। হুদেইদাহ শহরটি হুতি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে আছে। ২০১৪ সাল থেকে হুতিরা দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে। বর্তমানে ইয়েমেনের অধিকাংশ এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণ আছে। দেশটির নির্বাসিত প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মনসুর হাদি সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থান করছেন। তার সমর্থনে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর জোট বাহিনী ইয়েমেনে হুতিদের ওপর বিমান হামলা চালাচ্ছে। এসব বিমান হামলায় বহু বেসামরিক লোক নিহত হওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছে সৌদি জোট। চলতি মাসের প্রথমদিকে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় জানাযার নামাজ চলাকালীন জোট বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ১৪০ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হন। বিশ্বব্যাপী ব্যাপক সমালোচনার মুখে এ হামলার জন্য ‘ভুল গোয়েন্দা তথ্যকে’ দায়ি করে সৌদি জোট। এরমধ্েয জাতিসংঘের শান্তিদূত ইসমাইল ঔলদ শেখ আহমেদের দেওয়া নতুন একটি শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রেসিডেন্ট হাদি। এই প্রস্তাবে শান্তির জন্য একটি ‘রোডম্যাপ’ প্রণয়ন করা হলেও তা গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়নি, তবে এতে ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ সরকারে হুতি বিদ্রোহীদের অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে রিয়াদ থেকে হাদি বলেছেন, “প্রস্তাবে অভ্যুত্থানের নেতাদের পুরস্কৃত করা হয়েছে এবং ইয়েমেনি জনগণকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। ইয়েমেনের প্রধান প্রধান শহরগুলো থেকে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহার করার বিনিময়ে প্রস্তাবে প্রেসিডেন্টের কিছু ক্ষমতাও হ্রাস করা হয়েছে বলে জানা গেছে।