ইসি গঠন নিয়ে আরও ৫ রাজনৈতিক দলকে রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণ

115

hamidনতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের ব্যাপারে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে আলোচনার জন্য তৃতীয় পর্যায়ে বঙ্গভবন আরও পাঁচটি রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন বলেন, গত বৃহস্পতিবার পাঁচটি রাজনৈতিক দলের অফিসের ঠিকানায় আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে। প্রেস সচিব জানান, রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ আগামি বছরের ৪ জানুয়ারি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ও বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল, ৫ জানুয়ারি কমিউনিস্ট পার্টি অব বাংলাদেশ, ৭ জানুয়ারি বিকল্পধারা বাংলাদেশ ও সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সঙ্গে আলোচনা করবেন। ইসি গঠনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনার জন্য রাষ্ট্রপতি এ উদ্যোগ নেন। নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের ব্যাপারে বঙ্গভবনের দরবার হলে ইসলামি ঐক্যজোট (আইওজে) নেতাদের সঙ্গে আলোচনাকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি অর্পিত দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে, তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ প্রয়োজন এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে অবশ্যই এ ক্ষেত্রে ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন বলেন, গত বৃহস্পতিবার আইওজে চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ নেজামীর নেতৃত্বে ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদল ৩০ মিনিটব্যাপী ওই বৈঠকে সার্চ কমিটি গঠন এবং নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের ব্যাপারে আট দফা প্রস্তাব দিয়েছে। আইওজের ইসি গঠনে বর্তমান পাঁচ সদস্যের পরিবর্তে আট সদস্যের কমিশন এবং যোগ্য ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে সার্চ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বলেছেন, জনগণ বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন দেখতে চায়। তাঁরা বলেন, রাজনৈতিক সমস্যা রাজনৈতিকভাবে সমাধান করা প্রয়োজন। সদ্যসমাপ্ত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে একটি আদর্শ নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করে তাঁরা বলেন, এই নির্বাচন দেশের জনগণের মাঝে আশার সঞ্চার করেছে। এর আগে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের ব্যাপারে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নুল আবেদীন বলেন, বিএনএফ ইসির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পর্যায়ক্রমে কমিশনারদের নিয়োগ দেওয়াসহ পাঁচ দফা প্রস্তাব দিয়েছে। আবুল কালাম আজাদ তাঁর প্রস্তাবে ইসিতে একজন অবসরপ্রাপ্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) অন্তর্ভুক্ত করার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিএনএফ সর্বদাই সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন আশা করে। বৈঠকে আবদুল হামিদ বলেন, নতুন ইসি গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রপতি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আলোচনায় তাদের গঠনমূলক বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে, যা শক্তিশালী কমিশন গঠনে ইতিবাচক অবদান রাখবে। রাষ্ট্রপতির সংশ্লিষ্ট সচিবরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। ইসি গঠনের ব্যাপারে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনার উদ্যোগ নেন। গত ১৮ ডিসেম্বর প্রথম তিনি বিএনপির সঙ্গে আলোচনা করেন। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এরইমধ্যে জাতীয় পার্টি, এলডিপি, জাসদ, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট এবং ইসলামি ঐক্যজোটের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ২ জানুয়ারি জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) এবং ৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশন ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) আলোচনার তারিখ নির্ধারিত রয়েছে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন ইসির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতি এ সংলাপের উদ্যোগ নেন। বঙ্গভবন সূত্রে জানা যায়, আগামী বছরের মধ্য জানুয়ারি পর্যন্ত এই আলোচনা অব্যাহত থাকবে এবং জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।