ইসি গঠনে সংলাপ

43

gourbangla logoনতুন নির্বাচন কমিশন তথা ইসি গঠনপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ অন্যান্য নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ নিয়ে সংলাপ চলছে। আগামী আট ফেব্রুয়ারি বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। নয়া নির্বাচন কমিশন কাদের দিয়ে গঠিত হবে, তার ওপর অনেকাংশে নির্ভর করছে ভবিষ্যত রাজনীতি। পরবর্তী নির্বাচন কমিশন তথা ইসি গঠন বিষয়ে রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন। এর মধ্য দিয়ে একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনের পথ প্রশস্ত হলো। বছরের শেষপ্রান্তে এসে রাষ্ট্রপতির এই উদ্যোগ সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি অবশ্য তাঁর দায়িত্ব হিসেবেই এই উদ্যোগ নিয়েছেন। যেমনটা নিয়েছিলেন এর আগে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান। তিনি বিভিন্ন দল থেকে প্রাপ্ত ব্যক্তিদের নাম যাচাই-বাছাই করে দেয়ার জন্য সংবিধান অনুযায়ী একটি সার্চ কমিটি করেছিলেন। এর ভিত্তিতেই পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট বর্তমান ইসি গঠিত হয়েছিল। এই কমিশনই গত পাঁচ বছরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ বিভিন্ন স্থানীয় নির্বাচন পরিচালনা করেছে। সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনও তারা করছে। সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হলেও বিএনপি-জামায়াত বর্তমান ইসি নিয়ে নানাভাবে বিরোধী অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু তারাও বর্তমান ইসির অধীনে বিভিন্ন নির্বাচনে অংশ নিয়েছে এবং নিচ্ছে। অবশ্য অতীতে দেখা গেছে, যখনই সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছে, তখনই নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক হয়েছে। আবার যখন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস, বৈরিতা, হানাহানি এবং গ্রহণ-বর্জনের মতো অপকৌশল প্রাধান্য পেয়েছে, তখনই নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক হয়েছে। তখনই সুষ্ঠু নির্বাচন পথ হারিয়েছে। ইসি সমালোচনার মুখে পড়েছে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অনেক ক্ষমতা, ভারতের মতোই। তবে প্রয়োগের ক্ষেত্রে কিছু দুর্বলতা ও ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়েছে বর্তমান ইসির ইউপি নির্বাচন পরিচালনায়। নির্বাচনী ব্যবস্থার সহায়ক শক্তিগুলো নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করেছে বলা যাবে না। নির্বাচনী ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদাররা সচল হলে এবং সহায়ক হিসেবে সহায়তা করলে সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে কোন অন্তরায়ই থাকে না আর। নয়া ইসি গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির উদ্যোগে আয়োজিত রাজনীতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকের প্রথমেই সংলাপে বসেন বিএনপি নেতারা। রাষ্ট্রপতির কাছে বিএনপি তাদের নির্বাচন কমিশনারদের নামসহ তেরো দফা প্রস্তাব পেশ করেছে। রাষ্ট্রপতি সব দলের সঙ্গে সংলাপ শেষে বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হবেন। সবার মতামত নিয়ে তিনি গ্রহণযোগ্য কমিশন গঠন করবেন। তার এই উদ্যোগের ফলে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য এবং অংশীদারিত্বমূলক নির্বাচন নিশ্চিত হবে। অবশ্য সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে এমন নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী ইসি গঠনের পথ সুগম করতে একমাত্র রাষ্ট্রপতিই পারেন কার্যকর উদ্যোগ নিতে। নতুন ইসি গঠনে রাষ্ট্রপতিই দায়িত্বপ্রাপ্ত হন সংবিধান অনুযায়ী। রাষ্ট্রপতির উদ্যোগ তখনই সফল হবে, যখন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িকতার প্রশ্নে বিরাজমান দূরত্ব ও বৈপরীত্য ঘুচিয়ে আনা হবে এবং নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে করার প্রয়োজনীয় কাজগুলো সম্পন্ন করা হবে। দলগুলোকে নিজেদের মধ্যে বাস্তবোচিত আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে। তবে রাষ্ট্রপতিকে বিতর্কিত করা কিংবা কোন অযৌক্তিক চাপ প্রয়োগ করে অনমনীয়তা প্রদর্শনের মতো অহিতকর কর্মকান্ড থেকে সব মহলকে নিবৃত্ত থাকতে হবে। ইসি পুনর্গঠনে রাষ্ট্রপতি যে সিদ্ধান্ত দেবেন, চৌদ্দদলীয় জোট তা মেনে নেবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। অবশ্য রাষ্ট্রপতি কোনভাবেই সংবিধানের বাইরে যেতে পারবেন না। তাঁর দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে বলা আছে। সুতরাং যা কিছু হতে হবে, তা সংবিধান অনুসারে হওয়াই বাঞ্ছনীয়।