ইসির সংলাপ শুরু হতে যাচ্ছে

74

২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির আগের ৯০ দিনের মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবরের পর থেকে শুরু হবে একাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় গণনা। এই নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে হাত দিতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) দেড় বছরের কাজের খসড়া সূচি ঘোষণা করেছিলেন। সে অনুযায়ী শুরু হতে যাচ্ছে অংশীজনের সঙ্গে সংলাপ অনুষ্ঠান। শুরুতেই সুধীসমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপ হবে জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে। আগস্টের শুরুতে সংলাপ হবে সাবেক সিইসি ও নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে। নির্বাচন কমিশন গণমাধ্যমের সঙ্গে আলোচনায় বসবে আগস্ট মাসেই। আগস্টের শেষার্ধ থেকে শুরু করে অক্টোবরের প্রথমার্ধের মধ্যে শেষ হবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ। এসব সংলাপের সুপারিশমালার প্রাথমিক খসড়া প্রস্তুত হবে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে। ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে সুপারিশমালা চূড়ান্ত হবে। এসব সংলাপে আলোচনা হবে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ, আইন সংস্কার, ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নতুন নিবন্ধন ভোটকেন্দ্র, ইসির সক্ষমতা বাড়ানো, সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি ও ইভিএম ব্যবহার প্রসঙ্গে। অর্থাৎ নির্বাচন কমিশনের কর্মযজ্ঞ শুরু হতে যাচ্ছে।
নতুন নির্বাচন কমিশনকে এখন পর্যন্ত বড় কোনো পরীক্ষার মুখে সেভাবে পড়তে হয়নি। তাদের সামনে বড় পরীক্ষা মূলত একাদশ সংসদ নির্বাচন। কমিশনের সক্ষমতার ওপর যেকোনো নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা বর্তমান কমিশনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া কমিশনকে রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা অর্জন করতে হবে। জনমনেও এ ধারণা বদ্ধমূল করতে হবে যে নির্বাচন কমিশন একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে সক্ষম। জন-আস্থা সৃষ্টি করতে পারলেই নির্বাচন কমিশনের সামনে থেকে সবচেয়ে বড় বাধাটি দূর হয়ে যাবে। অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা অর্জন তো অবশ্যই করতে হবে। ইভিএম বা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহার নিয়ে যে বিতর্ক আছে, সে বিষয়ে এরইমধ্যে নির্বাচন কমিশন তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেছে, রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা না পেলে কোনোভাবেই আগামি নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে না। অর্থাৎ সবাইকে আস্থায় নিয়েই আগামি সংসদ নির্বাচন করতে চায় কমিশন। আমরা আশা করব, ইসির রোডম্যাপ বাস্তবায়নে প্রতিষ্ঠানটি যোগ্যতার পরিচয় দেবে। সবার অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হবে।