ইনিংস হারের তেতো স্বাদ

52

দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস ও ২৫৪ রানে হারল মুশফিকের দল বারবারই অল্পের জন্য বেঁচে যাচ্ছিলেন রুবেল। কিন্তু রাবাদার কাছ থেকে কি বেশিক্ষণ বাঁচা যায়? বোল্ড করে দিলেন দারুণ এক ইয়র্কারে।
ইনিংসে রাবাদার এটি পঞ্চম উইকেট। ম্যাচে দশম। ২২ টেস্টে ৫ উইকেট নিলেন ৭ম বার। ম্যাচ ১০ উইকেট তৃতীয়বার। ৭ রানে আউট রুবেল। বাংলাদেশ ৯ উইকেটে ১৫৬।
সাব্বিরের আউটের রেশ না যেতেই তার পথ ধরলেন তাইজুল ইসলাম। স্টাম্পের বাইরের বল শরীর থেকে দূরে খেলে তাইজুল টেনে আনলেন স্টাম্পে। ম্যাচে রাবাদার নবম উইকেটে। ২ রানে বোল্ড তাইজুল। বাংলাদেশ ৮ উইকেটে ১৪৫।
সাব্বির আউট হলেন তার মতো করেই। অফ স্টাম্পের একটু বাইরে পিচ করে বল বেরিয়ে যাচ্ছিল আরেকটু। সাব্বির পেতে দিলেন ব্যাট। কানা ছুঁয়ে বল গেল দ্বিতীয় স্লিপে। ফাফ দু প্লেসি হাতে জমালেন নির্ভরতায়।
ফেলকুওয়ায়োর আরেকটি উইকেট। ৪ রানে বিদায় সাব্বিরের। বাংলাদেশ ৭ উইকেটে ১৪৫।
জুটির সঙ্গীকে হারানোর পর বেশিক্ষণ টিকলেন না মাহমুদউল্লাহও। ফিরলেন ডিন এলগারের দারুণ ক্যাচে। কাগিসো রাবাদা স্পর্শ করলেন ১০০ উইকেটের মাইলফলক।
অফ স্টাম্পের বেশ বাইরে ব্যাক অফ লেংথ বল। মাহমুদউল্লাহ ড্রাইভ মতো করতে চেয়ে ঠিকমত খেলতে পারেননি। গালিতে বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে দারুণ ক্যাচ নিলেন এলগার।
রানের খাতা খুলতে ২০ বল লেগেছিল মাহমুদউল্লাহর। এরপর খেলেছেন দৃষ্টিনন্দন সব শট। তবে ইনিংস বড় করতে পারলেন না। ফিরলেন ৪৩ রানে। বাংলাদেশ ৬ উইকেটে ১৩৯।
দারুণ বোলিং আর ব্যাটসম্যানের ভুল বিচার-দুটি মিলিয়ে আরেকটি উইকেট। একটি জুটি গড়ে উঠছিল। প্রথম ইনিংসের মতোই দারুণ খেলছিলেন লিটন দাস। কিন্তু বোল্ড হয়ে গেলেন আন্দিলে ফেলুকওয়ায়োর বলে শট না খেলে।
ব্যাটসম্যানকে দারুণ ভাবে ‘সেট আপ’ করেছিলেন ফেলুকওয়ায়ো। টানা চারটি বল অফ স্টাম্পের বাইরে। খানিকটা বেরিয়ে গেছে। ব্যাটসম্যান ছেড়ে দিয়েছেন। পঞ্চম বলটিও অফ স্টাম্প ঘেষা। বাইরে চলে যাবে ভেবে ছেড়ে দিলেন লিটন। এবার বেরিয়ে না গিয়ে একটু ভেতরে ঢুকে উড়িয়ে দিল অফ স্টাম্প।
১৮ রানে বোল্ড লিটন। ভাঙল ৪৩ রানের পঞ্চম উইকেট জুটি। বাংলাদেশের রান ৫ উইকেটে ১৩৫।
গত টেস্টেও শট না খেলে আউট হয়েছিলেন লিটন। এই ইনিংসেই ছেড়ে দিয়ে আউট হয়েছেন মুশফিক।
ডানহাতি ব্যাটসম্যানের জন্য বল ভেতরে ঢোকানোটা প্রায় ভুলেই গিয়েছিলেন ওয়েইন পার্নেল। এবার একটু পারলেন, তাতেই সর্বনাশ মুশফিকের।
বল পিচ করে বাইরে চলে যাবে ভেবেই পা বাড়িয়ে ছেড়ে দেন মুশফিক। কিন্তু শেষ মুহূর্তে একটু ভেতরে ঢোকে বল। সেটুকুই যথেষ্ট ছিল আম্পায়ারের আঙুল তোলার জন্য।
মুশফিক রিভিউ নিয়েছিলেন। টিভি রিপ্লে দেখাল, সামান্য ভেতরে ঢুকে অফ স্টাম্প ছুঁয়ে যাচ্ছিল বল। টিকে থাকল আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশের সান্ত¡না কেবল আম্পায়ার্স কল বলে রিভিউ অক্ষত থেকে যাওয়া।
২৬ রানে আউট হলেন মুশফিক। তৃতীয় দিন লাঞ্চের সময় বাংলাদেশের রান ৪ উইকেটে ৯২।
এদিন প্রথম সেশনে ৪ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তুলেছে ৮৫ রান। গড়ে ওঠেনি বলার মত জুটি। আরও একটি হতাশার সেশন। ম্যাচ তৃতীয় দিনে শেষ হবার শঙ্কা আরও ঘনীভূত।
প্রথম ইনিংসের মত আবারও থিতু হয়ে আউট ইমরুল কায়েস। এবারও বাজে শটে। উইকেট শিকারে নাম লেখালেন ডুয়ানে অলিভিয়ের।
যথারীতি শট বল। তবে লেগ স্টাম্পের বাইরে। না খেলে ছাড়া যেত অনায়াসেই। কিন্তু ইমরুল গেলেন গ্ল্যান্স করতে। ব্যাটের কানা ছুঁয়ে বল কিপারের হাতে।
৩২ রানে আউট ইমরুল। বাংলাদেশ ৩ উইকেটে ৬৩।
ডুয়ানে অলিভিয়েরের শরীর সোজা শর্ট বলটি খেলতে গিয়ে চোখ সরিয়ে নেন মুশফিক। যতটা আশা করেছিলেন, ততটা লাফায়নি বল। সরাসরি গিয়ে লাগে হেলমেটে। পড়ে যান মুশফিক, খুলে ফেলেন হেলমেট। যন্ত্রণায় চেপে ধরেন মাথা।
মাঠে বাংলাদেশের ফিজিওর পাশাপাশি ছুটে আসেন দক্ষিণ আফ্রিকার ডাক্তারও। খানিক পর উঠে দাঁড়ান মুশফিক। হেলমেট বদলে আবার শুরু করেন ব্যাটিং।
কেশভ মহারাজের বলে পেছনের পায়ে খেলতে গিয়ে ব্যাটে-বলে করতে পারেননি মুশফিক। এলবিডব্লিউর আবেদন করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। আম্পায়ার সাড়া না দিলে নেওয়া হয় রিভিউ। আম্পায়ার্স কলে টিকে যান মুশফিক। নতুন নিয়ম অনুযায়ী অক্ষত থাকে দক্ষিণ আফ্রিকার রিভিউ।
বাংলাদেশের খানিকটা স্বস্তি হয়ে আসে পানি পানের বিরতি। তৃতীয় দিনের প্রথম ঘণ্টা শেষ। বাংলাদেশের রান ২ উইকেটে ৫১।
ফিল্ডারকে জায়গামত রাখা ছিল শুধু এই শটের জন্যই। মুমিনুল পা দিলেন সেই ফাঁদে। রাবাদা সফল আরেকবার।
রাবাদার বাউন্সারে শট খেলার লোভ সামলাতে পারলেন না মুমিনুল। পুল শটকে রাখতে পারলেন না নিচে। ডিপ স্কয়ার লেগে ফিল্ডার কেশভ মহারাজকে নড়তে হয়নি খুব একটা। সহজ ক্যাচ।
১১ রানে ফিরলেন মুমিনুল। বাংলাদেশ ২ উইকেটে ২৯।
আগের ওভারে জীবন পেলেও শেষ রক্ষা হলো না সৌম্য সরকারের। বাজে শটে ফিরলেন দ্রুতই।
রাউন্ড দা উইকেটে স্টাম্পের অনেক দূর থেকে বল করেছিলেন রাবাদা। অফ স্টাম্পের বাইরের সেই বল ছেড়ে না দিয়ে ডিফেন্স করতে গেলেন সৌম্য। সেটিই ডেকে আনল তার শেষ। দ্বিতীয় স্লিপ থেকে ঝাঁপিয়ে প্রথম স্লিপের সামনে থেকে ক্যাচ নিলেন ফাফ দু প্লেসি।
৩ রানে ফিরলেন সৌম্য। বাংলাদেশের রান ১ উইকেটে ১৩।
এই উইকেটেই এ বছর প্রথম বোলার হিসেবে ৫০ টেস্ট উইকেটের মাইলফলক ছুঁলেন রাবাদা।
বাঁচলেন সৌম্য
দিনের শুরুতেই আউট হতে হতে বেঁচে গেলেন সৌম্য সরকার। ডুয়ানে অলিভিয়েরের শরীর সোজা বলে ফ্লিক মতো করেছিলেন। বল দ্রুত গতিতে চলে যায় ফরোয়ার্ড শর্ট লেগের দিকে। দারুণ রিফ্লেক্সে হাতে নিয়েছিলেন এইডেন মারক্রাম। তবে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারেননি। ডাইভ দিয়ে মাটিতে পড়ার পর পড়ে যায় বলও।
২ রানে জীবন পেলেন সৌম্য। বাংলাদেশ বিনা উইকেটে ১২।
ম্যাচের ভাগ্য নিয়ে সংশয় আছে সামান্যই। ইনিংস পরাজয় এড়ানোও এখন যোজন যোজন দূরের পথ। বাকি থাকে কেবল লড়াইয়ের আশা। বাংলাদেশ কি পারবে ব্যাট হাতে বুক চিতিয়ে লড়াই করতে? পাশাপাশি একটি প্রশ্ন, ম্যাচ কি গড়াবে চতুর্থ দিনে?
ম্যাচের প্রথম দিনটি বাংলাদেশের জন্য ছিল হতাশার। দ্বিতীয় দিনে সেই হতাশা বেড়েছে বহুগুণে। বোলিং ছিল পরিকল্পনা ও ধারহীন। ব্যাটিং দায়িত্বজ্ঞানহীন ও লাগাম ছাড়া। তৃতীয় দিনে বাংলাদেশ সারাদিন ব্যাট করতে পারলে তাই সেটিই হবে বিস্ময়।
দক্ষিণ আফ্রিকার ৪ উইকেটে ৫৭৩ রানের জবাবে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে গেছে ১৪৭ রানেই। দ্বিতীয় ইনিংসে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে বিনা উইকেটে ৭ রানে। তৃতীয় দিন শুরুর সময় ইনিংস পরাজয় এড়াতেই চাই আরও ৪১৯ রান!