ইত্যাদির এবারের পর্ব দিনাজপুরে

70

01জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদির এবারের পর্ব ধারণ করা হয়েছে উত্তরাঞ্চলের প্রাচীন জেলা ও সীমান্তবর্তী শহর দিনাজপুরে। গত ১৮ই ডিসেম্বর অনুষ্ঠানটি ধারণ করা হয় দিনাজপুরের অত্যন্ত প্রাচীন ও ঐতিহাসিক কুঠিবাড়ির সামনে, যা বর্তমানে বিজিবি সেক্টর হেডকোয়ার্টার। এ পর্বটি একযোগে বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে প্রচার হবে ৩০শে ডিসেম্বর রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর। এবারের পর্বে দিনাজপুরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে রয়েছে একটি তথ্যসমৃদ্ধ প্রতিবেদন। ঢাকা জেলার ধামরাইয়ের শিক্ষা তাপস নরেশ চন্দ্র অধিকারীর উপর রয়েছে একটি শিক্ষামূলক প্রতিবেদন। শিক্ষাদান যার কাছে যতটা পেশা, তার চেয়ে অনেক বেশি ব্রত। রয়েছে গাজীপুর সরকারি মহিলা কলেজের গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম তিতাসের উপর একটি সচেতনতামূলক প্রতিবেদন। রয়েছে কক্সবাজার সদর উপজেলার পোকখালী ইউনিয়নের জান্নাতুল বকেয়া মামুণির উপর একটি উদ্বুদ্ধকরণ প্রতিবেদন। এরইমধ্যে যে মেয়েটি নেতৃত্বদান, নিয়মানুবর্তিতা, দরিদ্রবান্ধব কর্মসূচিসহ নানা কাজে হয়ে উঠেছে আদর্শস্থানীয়া। দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার জন্মান্ধ ভ্যানচালক মহাসিন আলী ও তার পরিবারের উপর রয়েছে একটি মানবিক প্রতিবেদন। এছাড়াও রয়েছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের ফেসবুক ফ্যান পেজের উপর একটি আকর্ষণীয় পর্ব। এ উপলক্ষে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া বার্নিকাটের সঙ্গে রয়েছে হানিফ সংকেতের একটি ভিন্নধর্মী সাক্ষাৎকার। এবারের বিদেশি প্রতিবেদন করা হয়েছে তুরস্কের বসফরাস সেতুর উপর। এবারের ইত্যাদিতে মূল গান রয়েছে একটি। বিজয়ের মাস উপলক্ষে থাকছে দেশাত্মবোধক গান। গানটি লিখেছেন মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান, সুর করেছেন আলী আকবর রুপু, গেয়েছেন শিল্পী এন্ড্রু কিশোর। এছাড়াও ইত্যাদিতে প্রচারিত একটি জনপ্রিয় দেশের গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেছেন দিনাজপুরের অর্ধশতাধিক স্থানীয় নৃত্যশিল্পী। এবারে দিনাজপুর ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে ঘিরে করা প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে হাজার হাজার দর্শকের মাঝখান থেকে ৪ জন দর্শক নির্বাচন করা হয়। ২য় পর্বে একটি নাট্যাংশে তারা অভিনয় করেন। যা ছিল বেশ উপভোগ্য। দীর্ঘদিন পর শিল্পী আরিফুল হককে এবার দেখা যাবে ‘ইত্যাদি’তে। অনেক দিন অসুস্থ থাকার পর খ্যাতিমান অভিনেতা মাসুদ আলী খানও আবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেন ইত্যাদির এবারের একটি পর্বে। নিয়মিত পর্ব হিসেবে এবারও রয়েছে যথারীতি মামা-ভাগ্নে, নানী-নাতি ও চিঠিপত্র বিভাগ। রয়েছে বিভিন্ন সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে বেশ কিছু সরস ও তীক্ষ্ন নাট্যাংশ। বনভোজনে যুগের হাওয়া, অচেতন ব্যক্তির সচেতনতা, দায়িত্বজ্ঞান, প্রত্যাশার বিপরীত প্রাপ্তি, অশিক্ষার কুফল, একাল ও সেকালের কথা, চামচা হইতে সাবধানসহ বিভিন্ন সামপ্রতিক বিষয়ের উপর রয়েছে বেশ কয়েকটি নাট্যাংশ। বরাবরের মতো এবারও ইত্যাদির শিল্প নির্দেশনা ও মঞ্চ পরিকল্পনায় ছিলেন মুকিমুল আনোয়ার মুকিম। এবারের পর্বের উল্লেখযোগ্য শিল্পীরা হলেন আরিফুল হক, নাজমুল হুদা বাচ্চু, কে এস ফিরোজ, আবদুল আজিজ, মাসুদ আলী খান, সোলায়মান খোকা, এস.এম মহসীন, জিয়াউল হাসান কিসলু, আবদুল কাদের, আফজাল শরীফ, এজাজুল ইসলাম, সুভাশিষ ভৌমিক, আমিন আজাদ, কামাল বায়েজিদ, জিল্লুর রহমান, কাজী আসাদ, শবনম পারভীন, রতন খান, মামুনুল হক টুটু, বিনয় ভদ্র, জামিল, নিসা, আনোয়ার শাহী, সাজ্জাদ সাজু, বিলু বড়ুয়া, নিপু, জাহিদ চৌধুরী, রবিন, নজরুল ইসলাম, ফরিদ, মতিউর রহমান, এ্যামিলা, মনজুর আলমসহ আরো অনেকে। পরিচালকের সহকারী হিসাবে ছিলেন যথারীতি রানা সরকার ও মামুন মোহাম্মদ। সব শ্রেণী-পেশার মানুষের প্রিয় অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’ রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। নির্মাণ করেছে ফাগুন অডিও ভিশন। স্পন্সর করেছে যথারীতি কেয়া কস্মেটিকস্ লিমিটেড।