ইউরো ফুটবল টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে সর্বোচ্চ সতর্কতায় ফ্রান্স

50

gourbangla logoটুর্নামেন্ট উপলক্ষে ফ্রান্স সফরকারী অন্তত ২০ লাখ বিদেশী ফুটবল সমর্থকের নিরাপত্তার জন্য দেশটিতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মাসব্যাপী এই টুর্নামেন্ট চলাকালে ব্রিটেনের ফুটবল অনুরাগীরা সন্ত্রাসী হামলার শিকার হতে পারে বলে দেশটি সতর্কতা জারি করার একদিন পর সফরকারীরা কোন বড় ধরনের সমস্যায় পড়লে তা শনাক্ত করার জন্য একটি অ্যাপ প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফরাসি সরকার। স্বরাস্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায় নির্মিত এই অ্যাপটি বিনা পয়সায় ডাউনলোড করা যাবে। এর ব্যবহারকারী যদি কোন হামলা বা বিপর্যয়ের আশংকায় পড়ে তাহলে অ্যাপটি সংকেত দিতে থাকবে।মঙ্গলবার ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে মাসব্যাপী এই চ্যাম্পিয়নশীপ চলার সময় ‘সন্ত্রাসী হামলার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা রয়েছে। ইউরো ২০১৬ চলাকালে স্টেডিয়াম, ফ্যান জোন, সম্প্রচার ভেন্যু, ও যোগাযোগ কেন্দ্রগুলো সন্ত্রাসী হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে থাকবে।’  মার্কিন যুক্তরাস্ট্রও গত সপ্তাহে একই ধরনের সতর্কতা সংকেত দিয়েছে। বলা হয়েছে টুর্নামেন্ট সম্প্রচারের জন্য ব্যবহৃত ভেন্যুগুলোই সন্ত্রাসী হামলার সবচেয়ে উৎকৃষ্ট লক্ষ্যবস্তু হিসেবে রয়েছে। গত সোমবার উইক্রেনে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ এক ফরাসি নাগরিকের আটক হওয়ার ঘটনাটি এই আশংকার সম্ভাবনা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। ইউক্রেন বলেছে, গ্রেগরি মাউতক্স নামের ২৫ বছর বয়সী এই ফরাসি নাগরিক টুর্নামেন্ট চলাকালে মসজিদ, সিনাগগ সহ বিভিন্ন স্থাপনায় বহুমুখী হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছিল। তবে ওই ব্যক্তির আটক বিষয়ে এখনো পর্যন্ত ফ্রান্সের কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে কোন আনুষ্টানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বরং তাদের মতে ইউরো ২০১৬ টুর্নামেন্ট চলাকালে কোন ধরনের সন্ত্রাসী হামলা আসতে পারে বলে তারা বিশ্বাস করেনা।  ১৩ হাজার বেসরকারী নিরাপত্তা রক্ষীসহ দেশটি ইউরো ২০১৬ এর নিরাপত্তার জন্য ৯০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ করেছে। প্যারিস পুলিশের প্রধান মিশেল কেডত বলেছেন যে রাজধানীতে নিযুক্ত ১০ হাজার নিরাপত্তা কর্মীর সঙ্গে আরো ৩ হাজার নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে যুক্ত করা হবে।
গত নভেম্বরে প্যারিসে আত্মঘাতি বোমা হামলা ও গুলীবর্ষনের ঘটনার পর এখনো পর্যন্ত জরুরী অবস্থা বহাল রয়েছে ফ্রান্স জুড়ে। ওই ঘটনায় ১৩০ ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে। যার দায় শিকার করেছিল ইসলামী স্টেটের (আইএস) একটি গ্রুপ। ইউরো চলাকালে অপেক্ষাকৃত কম নিরাপত্তা যুক্ত স্থানগুলোকেই জেহাদি গ্রুপ তাদের আক্রমনের লক্ষ্যবস্থু বানাতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্যারিসে অবস্থিত ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল এন্ড স্ট্রাটেজিক রিলেশন্স এর পাসকেল বনিফেস বলেন, ‘আপনি হয়তো এক হাজার লক্ষ্যবস্তুর নিরাপত্তা দিচ্ছেন। কিন্তু তারা এক হাজার এক তম লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানবে।’ আগামী শুক্রবার স্বাগতিক দল বনাম রোমানিয়ার মধ্যকার উদ্বোধনী ম্যাচকে সামনে রেখে রেলে ভ্রমণকারীদের সমস্যার হুমকির মধ্যে রয়েছে ফ্রান্স। কারণ এক সপ্তাহ ধরে রেল শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে এই যোগাযোগ ব্যবস্থাটি নাজুক পরিস্থিতির মুখে রয়েছে। শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বিষয়ে রাস্ট্রীয় পরিচালনা সংস্থা এসএনএফসির বৈঠকে কিছুটা অগ্রগতি হবার পরও ইউনিয়নগুলো তাদের ধর্মঘট অষ্টম দিনে নিয়ে যাবার পক্ষে সমর্থন দিয়েছে। রেল ধর্মঘটের পাশাপাশি বিমানের পাইলটদের ধর্মঘটেরও হুমকিতে রয়েছে ফ্রান্স। যদি তারা ধর্মঘট অব্যাহত রাখে তাহলে চরমভাবে বাঁধাগ্রস্ত হতে পারে চার বছর পরপর আয়োজিত ইউরোপের শীর্ষ দেশগুলোর এই ফুটবল টুর্নামেন্ট। আগামী শনিবার থেকে চার দিনের জন্য আকাশে বিমান না ওড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাইলটরা। অথচ এ সময়েই ফ্রান্সের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে দেবে আনুমানিক ২০ লাখ বিদেশী ফুটবল সমর্থক। ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদ ইউনিয়নগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন আসন্ন টুর্নামেন্ট যদি কোনভাবে বাঁধাগ্রস্ত হয় তাহলে তাদের প্রতি ন্যুনতম সমবেদনাও দেখানো হবেনা।