ইউক্রেনে রুশ হামলায় দুই মার্কিন নাগরিক নিহত

2

সম্প্রতি ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের ডনবাসে রাশিয়ার হামলায় দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রয়টার্স ও সিএনএন। শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক মুখপাত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র বলেন, মার্কিন প্রশাসন নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং সকল সম্ভাব্য কনস্যুলার সহায়তা প্রদান করছে। তবে ঘটনার বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান এই কর্মকর্তা। ইউক্রেন প্রায় পাঁচ মাস ধরে রাশিয়ার দ্বারা অবরোধের মধ্যে রয়েছে। এটিকে মস্কো ইউক্রেনকে নিরস্ত্র করতে ও পশ্চিমাদের দ্বারা উস্কে দেয়া রুশ-বিরোধী জাতীয়তাবাদ থেকে মুক্তি দেয়ার জন্য একটি ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ বলে অভিহিত করা হচ্ছে। কিয়েভ ও পশ্চিমারা বলছে, রাশিয়া বিনা প্ররোচনায় যুদ্ধ শুরু করেছে।

বেশ কয়েকজন আমেরিকান ইউক্রেনীয় বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করতে স্বেচ্ছায় কাজ করছে। এর আগে একজন মার্কিন নাগরিক গত মে মাসে যুদ্ধে নিহত হন। এদিকে, ইউক্রেনের ওডেসা বন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। কৃষ্ণ সাগরের বন্দরগুলোতে পুনরায় শস্য রপ্তানি চালু করার জন্য রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের একদিন পরেই এ হামলা চালানো হলো। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানায়, শত্রুরা (রুশ সেনারা) কালিবর ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ওডেসার বাণিজ্যিক বন্দরে হামলা চালিয়েছে। তবে বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী দুটি ক্ষেপণাস্ত্র গুলি করে ভূপাতিত করেছে।

অপরদিকে, ইউক্রেনকে আরও ২৭ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে উন্নত প্রযুক্তির ড্রোনও রয়েছে। হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, ওয়াশিংটন যুদ্ধবিমান পাঠানোর বিষয়ে প্রাথমিক কাজ করছে। এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের ৮২০ কোটি ডলার নিরাপত্তা সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, নতুন করে তারা ইউক্রেনকে আরও ২৭ কোটি ডলারের বাড়তি সামরিক সহায়তা পাঠাচ্ছে। এতে মধ্যম পাল্লার রকেট সিস্টেম এবং ট্যাক্টিক্যাল ড্রোন অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন ইউক্রেনের জন্য সম্প্রতি চার হাজার কোটি ডলারের অর্থনৈতিক এবং নিরাপত্তা সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করে। তবে রাশিয়া বলছে, যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা যেসব দেশ ইউক্রেনে অস্ত্র পাঠাবে সেগুলো রাশিয়ার সৈন্যদের জন্য বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য হবে। মস্কো আরও জানিয়েছে, পশ্চিমা অস্ত্রের চালান হবে তাদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু।