আর্সেনিক ভোগান্তি কাটেনি বেতবাড়িয়া গ্রামবাসীর

12

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বেতবাড়িয়া গ্রামে আর্সেনিক আক্রান্তদের খাবার পানি সমস্যার সমাধান হয়নি। ৩ হাজার লিটার ধারণ ক্ষমতার একটি ট্যাংক ও একটি পাম্প স্থাপন করা হলেও পাইপলাইন বসানোর কাজ শেষ না হওয়ায় পানি সরবরাহ পাচ্ছে না গ্রামবাসী। তবে আগামী এক মাসের মধ্যে পাইপলাইন বসানোর কাজ শেষ হবে বলে আশা করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।
উল্লেখ্য, বেতবাড়িয়া গ্রামে টিউবওয়েলের পানি ব্যবহার করে ৪০ থেকে ৫০ জন আর্সেনিক আক্রান্ত হন। বেশ কিছু মানুষের হাতে ও পায়ে গুটিসহ সারা শরীরে কালো তিল দাগ দেখা দেয়। বিশেষ করে শরীরে কালো কালো দাগ, হাতে পায়ে ঘা দেখা হয়। এ নিয়ে গৌড় বাংলায় গত ১৭ জুলাই একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ওই গ্রামে একটি পাম্প স্থাপন করেছে। তবে পাইপলাইন স্থাপন কাজ শেষ শেষ না হওয়ায় দূর থেকে গ্রামের মানুষকে পাম্পে গিয়ে পানি নিয়ে আসতে হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের। ভোগান্তি এড়াতে অনেকেই বাড়ির কাছে থাকা আগের সাবমার্সিবল পাম্পের আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করছে। এর ফলে গ্রামবাসী এখনো আর্সেনিকে আক্রান্ত হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার সরেজমিনে কথা হয় আলেপনূর (৪৫), শাহনাজ (৩৬), জুলেখা (৪০), সাবিনা (৪৫), নজরুল ইসলাম (৪৫) ও ইসমত আরা (৩৫)সহ আরো অনেকের সঙ্গে। তারা জানান, এক মাস আগে সদর উপজেলা থেকে এ গ্রামের টিউবওয়েলগুলোতে আর্সেনিক থাকায় একটি পাম্প ও ৩ হাজার লিটার ধারন ক্ষমতার একটি ট্যাংকের ব্যবস্থা করে। ৮টি স্থানে ট্যাপসহ পাইপলাইন বসানোর কথা। কিন্তু এখনো লাইন নির্মাণ না করার ফলে একসাথে ৫০টির অধিক পরিবার পাম্পে পানি আনতে গিয়ে নানারকম সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। সে কারণে অনেক সময় বাধ্য হয়ে কেউ কেউ আগের টিউবওয়েলের পানি পান করে আর্সেনিক ঝুঁকিতে পড়ছে। তারা দ্রুত গ্রামের ৮টি স্থানে পানির কলসহ পাইপলাইন স্থাপন করে খাওয়ার পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমার সরকার জানান, বেতবাড়িয়া গ্রামে ৩ হাজার লিটার ধারণ ক্ষমতার একটি ট্যাংক ও পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। আশা করছি আগামী সপ্তাহ থেকেই পাইপলাইন স্থাপন কাজ শুরু হবে এবং মাসখানেকের মধ্যেই শেষ হবে। পাইপলাইন স্থাপনের সঙ্গে ৮টি স্থানে ৮টি ট্যাপ থাকবে। সেইসব ট্যাপ থেকে গ্রামবাসী পানি সরবরাহ পাবে।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তসিকুল ইসলাম তসি বলেন, শিগগিরই লাইনগুলো নির্মাণ করে পানি সরবরাহ করা হবে।
১০-১৫ বছর ধরে ওই গ্রামের মানুষ সাবমার্সিবল পাম্পের পানি পান করে আসছিল। গত ৩-৪ মাস থেকে গ্রামের প্রায় ৪০-৫০ জন মানুষের আর্সেনিক দেখা দিলে জেলা সিভিল সার্জন আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মী জেসমিন আক্তার বলেন, আমাদের হিসাব মতে গ্রামটির ৪০ জনের অধিক মানুষ বর্তমানে আর্সেনিকে আক্রান্ত। তাদের নিয়মিত চিকিৎসার খোঁজ নেয়া হয়। ওষুধ শেষে হলে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ওষুধ নেয়ার জন্য বলা হয়েছে এবং জেলা থোকে সরবরাহ থাকলে রোগীদের ওষুধ দেওয়া হয়।