আর্থ-সামাজিক খাতে ৭ বছরে সরকারের ব্যাপক অর্জন

81

ged-josna-30-10-16আর্থ-সামাজিকখাতে গত ৭ বছরে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে সরকার। এই সময়ে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পরিকল্পনা ও কর্মসূচির সুফল মিলছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি, সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ, রাজস্ব আয়, রফতানি, রেমিট্যান্স আহরণ, দারিদ্র্য নিরসন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো তৈরি ও উন্নয়ন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ এবং শিশু ও মাতৃ মৃত্যুহার কমানোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলতা এসেছে। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) এক প্রতিবেদনে সরকারের সাফল্যের এ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এ বিষয়ে সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী (২০২১ সাল) সামনে রেখে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের সুনিন্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দীর্ঘমেয়াদি রূপকল্প বাংলাদেশ প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ পরিকল্পনার মূল লক্ষ্যই হচ্ছে ২০২১ সালের মধ্যে মাথাপিছু আয় ২ হাজার মার্কিন ডলারে উন্নীত করা, শিল্পখাতে প্রবৃদ্ধি ৩৭ শতাংশে, বেকারত্ব ও অর্ধ-বেকারত্বের হার ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং মাথাপিছু বিদ্যুৎ ব্যবহার ৬০০ কিলোওয়াট ঘণ্টায় উন্নীত করা ইত্যাদি। এসব লক্ষ্য অর্জনে ইতোমধ্যেই ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়েছে। বর্তমানে ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা। এসব পরিকল্পনার সুফল হিসেবে আর্থ-সামাজিকখাতে উন্নয়ন ঘটছে। প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী প্রধান যেসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি এসেছে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- জিডিপি প্রবৃদ্ধি-সরকার যখন প্রথমবার দায়িত্ব নেয় তখন দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫ দশমিক ১ শতাংশ। গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫৫ শতাংশে উন্নীত হয়। সর্বশেষ সদ্যসমাপ্ত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ১১ শতাংশে। মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৫ ডলারে। উন্নয়ন বাজেট-২০০৫-০৬ অর্থবছরে উন্নয়ন বাজেটের আকার ছিল ২৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে চারগুণ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৯১ হাজার কোটি টাকায়। বর্তমানে চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এর আকার বেড়ে ১ লাখ ১০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা করা হয়েছে। বেসরকারি বিনিয়োগ-সরকারি বিনিয়োগ বেড়েছে ব্যাপক। সেইসঙ্গে বেড়েছে বেসরকারি বিনিয়োগও। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বেসরকারি বিনিয়োগ ছিল ৯৯ হাজার ২৭১ কোটি টাকা। সেখান থেকে প্রায় তিনগুণ বেড়ে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা হয়েছে। চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৮০০ কোটি টাকায় উন্নীত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করা হচ্ছে। রাজস্ব আয়-২০০৫-০৬ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৪-১৫ অর্থবছরে মোট রাজস্ব ও কর রাজস্ব তিনগুণের অধিক হয়েছে। মোট রাজস্ব আয় সে সময় ছিল ৪৪ দশমিক ২ হাজার কোটি টাকা। গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১৮৭ দশমিক ৬ হাজার কোটি টাকায়। মোট রাজস্ব আয় প্রায় সাড়ে ৪ গুণ অর্থাৎ ৩২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সময়কালে কর রাজস্ব ৩৫ দশমিক ৫ হাজার কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১৬১ দশমিক ৪ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। রফতানি আয়-২০০৫-০৬ অর্থবছরে রফতানি আয় ছিল ১০ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ২০১৪-১৫ অর্থবছরে তিনগুণ বেড়ে দাঁড়ায় ৩২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার এবং ২০১৬ সালে ৩৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে বলে আশা করা যায়। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে রফতানি আয় ছিল জিডিপির শতকরা ১৪ দশমিক ৬ ভাগ, ২০১৪-১৬ অর্থবছরে শতকরা ১৬ দশমিক ৫ ভাগ এবং ২০১৬ সালের প্রাক্কলিত হিসেবে ধরা হয়েছে ১৫ দশমিক ৫ ভাগ। রেমিট্যান্স আয়-২০০৫-০৬ অর্থবছরে রেমিট্যান্স আয় ছিল মাত্র ৪ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে। রেমিট্যান্স আয় প্রায় সাড়ে তিনগুণ বা ২১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে গত আগস্ট পর্যন্ত ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। দারিদ্র্য নিরসন-২০০৫ সালে দেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪০ শতাংশ। ২০১৫ সালে নেমে এসেছে ২৪ দশমিক ৮ শতাংশে। ২০১৬ সালে এ হার প্রাক্কলন করা হয়েছে ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ। সেইসঙ্গে ব্যাপকহারে কমেছে অতিদারিদ্র্যের হারও।