আরআরআর প্রদর্শনে বিভ্রাট, হল ভাঙচুর

7

বহুল প্রতীক্ষিত ভারতীয় সিনেমা ‘আরআরআর’ মুক্তি পেয়েছে শুক্রবার। বিশ্বের নানা দেশে প্রায় ৮ হাজার হলে দেখা যাচ্ছে ছবিটি। এরইমধ্যে আয়ের দিক থেকে বিশাল এক রেকর্ডও গড়ে ফেলেছে ‘আরআরআর’। ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে একদিনে সর্বোচ্চ আয়ের তালিকায় শীর্ষে এখন ‘আরআরআর’। দুই তেলেগু মুক্তিযোদ্ধা কমারাস ভীম ও আলুরি সীতারামের জীবনকাহিনী নির্ভর এ চলচ্চিত্র নিয়ে দর্শকদের আগ্রহও তুঙ্গে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এ সিনেমার টিকিট পাওয়া যেন ভাগ্যের ব্যাপার! এমনকি হলে ‘আরআরআর’ প্রদর্শনে সামান্য ত্রুটিও মানতে নারাজ দর্শকরা।

দক্ষিণ ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের বিজয়ওয়াড়ার বেসান্ত রোডে ঘটেছে এমনই ঘটনা। মাত্র দুইবার কয়েক সেকেন্ডের জন্য ছবির প্রদর্শন থমকেছে। কয়েক সেকেন্ডের জন্য রামচরণকে দেখতে পাননি দর্শক। তাতেই মাথায় আগুন জ¦লেছে তাদের! প্রথমে চিৎকার করে প্রতিবাদ। পরেরবার আর চিৎকার নয়, প্রেক্ষাগৃহে ভাঙচুর চালিয়েছেন দর্শকরা। ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন প্রেক্ষাগৃহের কাচের জানলা, দরজা। উপড়ে দিয়েছেন পর্দার সামনের বেড়া। ভেঙে দিয়েছেন চেয়ার। গত শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটায় মর্নিং শো দিয়েই মুক্তি পায় পরিচালক রাজামৌলির ‘আরআরআর’। সবাই যখন ছবিতে বুঁদ তখনই সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে কয়েক সেকেন্ডের জন্য ছবি দেখানোয় বিভ্রাট। দর্শকের চিৎকারে কান পাতা দায়।

জনতা ক্ষেপেছে বুঝেই তড়িঘড়ি যান্ত্রিক ত্রুটি সারিয়ে ফের প্রদর্শন শুরু। কিছু ক্ষণ পরে দ্বিতীয়বার একই ঘটনা ঘটতেই দর্শকদের রোখে কে? রেগে গিয়ে রিতিমতো ভাঙচুর চালান তারা। ঘটনার আকস্মিকতায় প্রথমে হতচকিয়ে যান প্রেক্ষাগৃহের কর্ণধার। তার পরেই দ্রুত ব্যবস্থা নেন তিনি। সামলে নেন সবকিছু। পরে সংবাদমাধ্যমে তিনি জানান, স্যাটেলাইট সিগনালে কিছু সমস্যা দেখা দেওয়ায় কয়েক সেকেন্ডের জন্য থমকে গিয়েছিল ছবিটি। তাতেই এমন মারমুখী সবাই। শেষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হস্তক্ষেপ করতে হয় সরকারি এবং স্থানীয় প্রশাসনকে। দক্ষিণ এসিপি এম শ্রীনিবাসুলু জানান, মদ্যপ অবস্থায় ১০ যুবক ছবিটি দেখতে ঢুকেছিলেন। প্রদর্শন আচমকা বন্ধ হয়ে গেলে নেশার ঝোঁকে তারাই ভাঙচুর চালান। তাদের পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলেও জানান ভারতীয় পুলিশের এই কর্মকর্তা।