আমিও একদিন প্রয়াসের কর্মী ছিলাম

4

সিমন মারান্ডি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের উন্নয়ন সংস্থা প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটিতে একেবারে শুরুর দিকে যুক্ত হয়েছিলাম। তখন ফিল্ড ওয়ার্কার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতাম। এসএসসি পাস করেই প্রয়াসে যোগ দিয়েছিলাম।
বলতে পারি, প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটিতে প্রথম কর্মী হিসেবে আমি যোগদান করি। তারপর আমার সাথে যুক্ত হয়েছিলেন মুনিরা নামের আরেকজন। আমরা প্রথম প্রজেক্টের কাজ করার পাশাপাশি সমিতি পরিচালনা করা শুরু করি। প্রথম মাসে আমাদের বেতন দেয়া হতো মাত্র ৩০০ টাকা। বেতন কম হওয়ার পরও প্রয়াসে যোগদান করার কারণ ছিল। মূলত এটা একটা সেবামূলক কাজ মনে হতো আমার কাছে। আর অভিজ্ঞতা অর্জন করার বিষয়ও ছিল।
আমি ও হাসিব ভাই (প্রয়াসের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক) মিলে একসাথে কাজ করতাম। পরে বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রকল্প আসতে লাগল। যার ফলে আমরা ধীরে ধীরে কাজ শুরু করলাম। প্রয়াসকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে শক্ত একটা ভিত তৈরি হলো সেই সময়। তখন মাইক্রোক্রেডিট প্রসার লাভের পাশাপাশি পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)’র সাথে কাজ শুরু করে প্রয়াস।
প্রয়াসকে সামনের এগিয়ে যাওয়ার জন্য হাসিব ভাইয়ের পরিকল্পনা ছিল যে, গ্রামীণ নারীদের ছোট ছোট সঞ্চয় থেকে তাদেরকে বড় কাজ করার জন্য ঋণ দেয়া হবে। যে ঋণ গ্রহণ করে তারা উন্নয়নমূলক কাজে লাগাবে। যার ফলে তারা নিজেরা স্বাবলম্বী হবে।
২০১২ সালে আমি সরকারি চাকরিতে যোগদান করি। বর্তমানে নওগাঁ জেলার পতœীতলা উপজেলার নজিপুর পৌরসভার খাদ্যগুদামে অফিস সহকারীর দায়িত্ব পালন করছি। এখন আমার পরিবারে স্ত্রী ও ৩ মেয়ে।
প্রয়াসকে নিয়ে আমার স্বপ্ন ছিল অনেক। প্রথম দিকে প্রয়াসের অবস্থা ভালো ছিল না। একটা প্রতিষ্ঠান এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যা কিছু প্রয়োজন, তার কিছুই ছিল না। আজ প্রয়াস অনেকদূর এগিয়ে গেছে। অনেক জায়গায় তার কার্যক্রম বিস্তৃত করেছে। ভাবতে ভালো লাগে যে, আমিও একদিন এই প্রয়াসের কর্মী ছিলাম।
গুণগত মান ঠিক রেখে আগামীতে আরো অনেকদূর এগিয়ে যাক প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটিÑ এটাই প্রত্যাশা। প্রয়াস সারা বাংলাদেশে সুনামের সাথে কাজ করুক। সার্বিক দিক দিয়ে প্রয়াসের উন্নয়ন ও উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি।