আমনের পাকা শীষে সোনালী আভা কৃষকের মুখে

28

আল-মামুন বিশ্বাস, গোমস্তাপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফসলের ক্ষেতজুড়ে আমন ধানে সোনালী রঙ ধরেছে। বাতাসে দুলছে সোনালী শীস। আর আমনের পাকা শীষে সোনালী আভা দেখা দিয়েছে কৃষকদের মুখে। এরই মধ্যে আগাম জাতের ধানগুলো কাটা-মাড়াই শুরু হয়ে গেছে। ফলনও মোটামুটি ভালো হচ্ছে এবং বাজারে দামও ভালো আছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে পরিসংখ্যান মতে, এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর, নাচোল, গোমস্তাপুর, ভোলাহাট ও শিবগঞ্জ উপজেলায় ৫৩ হাজার ৫২০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আমন ধান আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৯ হাজার ৮৫০ হেক্টর, নাচোল উপজেলায় ২২ হাজার ২৩৫ হেক্টর, গোমস্তাপুর উপজেলায় ১৬ হাজার ৭৫ হেক্টর, ভোলাহাট উপজেলায় ৪ হাজার ১১০ হেক্টর এবং শিবগঞ্জ উপজেলায় ৫৫০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে।
কৃষি অফিস ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বতর্মানে আগামজাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে। ফলন হচ্ছে প্রতি বিঘায় ১৭ থেকে ১৮ মণ। জাতগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ ব্রি ধান ৭৫, ৮৭, ৯৩, ৯৪, ৯৫ এবং বিনা ধান ১৭, ২২, ১৯, ১৬ ও ২০ জাত। জেলায় চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি হেক্টরে ৩ দশমিক ৫ মেট্রিক টন। মোট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ৭৬০ মেট্রিক টন।
কৃষক ও কৃষি বিভাগের বরাত দিয়ে গোমস্তাপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গোমস্তাপুর উপজেলার মাঠজুড়ে আমন ধানের কাঁচা-পাকা ধানের শীষের সমারোহ। স্বপ্ন দেখছে কৃষকরা। ধান কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।
এদিকে চলতি বছর ভালো ফলন হবে বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে। এছাড়া উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭০ হেক্টর বেশি জমিতে আবাদ করা হয়েছে।
গোমস্তাপুর উপজেলার মাঠঘুড়ে দেখা গেছে, আধাপাকা শীষের ভারে ধানগাছ ন্যুয়ে পড়ছে। আর কয়দিন বাদেই শুরু হবে জোরেশোরে ধানকাটার মহোৎসব। মাঠজুড়ে এখন সোনালী স্বপ্নের ছড়াছড়ি। রঙিন হয়ে উঠছে প্রান্তিক কৃষকের স্বপ্ন। ক্ষেতে ধান কাটার জন্য অনেকে প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছেন। অনেক কৃষক ধারণা করছেন, এবার ধানের উৎপাদন ভালো হবে। সেই সঙ্গে দামও ভালো পাবেন। এমন স্বপ্ন নিয়ে নতুন করে আশায় বুক বেঁধেছেন তারা।
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, গোমস্তাপুর উপজেলায় এই মৌসুমে ১৬ হাজার ৭৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষাবাদ করা হয়েছে। উফশী জাতের ধান ১২ হাজার ৫৫৫ হেক্টর জমিতে, হাইব্রিড ৪৫০ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ৩ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কৃষকরা ৭০ হেক্টর জমিতে বেশি আবাদ করেছেন।
রহনপুর পৌর এলাকার কৃষক বাবু বলেন, খরা ও বন্যা না থাকায় এ বছর ভালো ফলন হবে। তিনি চলতি মৌসুমে ১৯ বিঘা জমি আবাদ করেছেন। সার, কীটনাশক, সেচ, অন্যান্য খরচসহ বিঘাপ্রতি ৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি ধান কাটা ও মাড়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
পার্বতীপুরের কৃষক এজাবুল জানান, রোগবালাই ও ইঁদুরের আক্রমণ থেকে রক্ষায় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা নানা পরামর্শ দিয়েছেন। ক্ষেতে ধান ভালো হয়েছে। শেষ মুহূর্তের পরিচর্যা করছেন। ধান কাটার পর সরিষা ও গমের আবাদ করবেন বলে তিনি জানান।
রহনপুর পৌরসভা ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাকিব উদ্দীন জানান, কৃষকদের জমিতে যথাযথ পরিচর্যাসহ সময়মতো সার ব্যবহারে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এবার প্রাকৃতিক দুর্যোগ তেমন একটা ছিল না। বাম্পার ফসল উৎপাদিত হবে বলে তিনি ধারণা করছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ সরকার বলেন, উপজেলা কৃষি বিভাগ সবসময় কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছন। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় ক্ষেতের ধানের অবস্থা ভালো রয়েছে। উৎপাদন ভালো হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।