আমদানি শুরু করলেই দেশে পেঁয়াজের দাম কমে যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভোক্তা অধিকারের মহপরিচালক

23

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহপরিচালক সরকারের অতিরিক্ত সচিব এ.এইচ.এম. সফিকুজ্জামান বলেছেন, “দেশের সব জায়গায় ভেজাল পণ্যে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। এমন কোনো পণ্য নেই, যার মধ্যে ভেজাল নেই। এমন কি কাফনের কাপড়টা কিনতে গিয়েও অনেক জায়গায় ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছে। আমদানি করা অনেক পণ্যের গায়ে আমদানিকারকের সিল নেই, পণ্যটি কোথা থেকে কিভাবে এলো, তারও কোনো হদিশ নেই। হয় কর ফাঁকি দিয়ে এসেছে আর না হয় অবৈধপথে আনা হচ্ছে। ওষুধ ও খাবারেও ভেজাল দেয়া হচ্ছে।”
অতিরিক্ত সচিব বলেন, “পাবনার হাজার হাজার কৃষক পেঁয়াজ উৎপাদন করেছেন, রমজানেও পেঁয়াজের কেজিপ্রতি ৫০ টাকা ছিল, কিন্তু মে মাসে এসে দেখেন, হঠাৎ করে ৭০ টাকা হয়ে গেল। এখানকার ব্যবসায়ীরা, যখন থেকে ভারতের মহারাষ্ট্রে বৃষ্টি হচ্ছে, বন্যা হচ্ছে তখনই বাজার অস্থির করে তোলে।”
অতিরিক্ত সচিব এএইচএম সফিকুজ্জামান আরো বলেন, হঠাৎ করেই পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির এই আচরণ কাম্য নয়। অথচ দাম বৃদ্ধির পরপর ভারত থেকে কিছু পেঁয়াজ আমদানি শুরু করলেই দেশে পেঁয়াজের দাম কমে যায়। এ বিষয়ে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত আসছে।
সচেতনতার বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এজন্য আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করেছি। মানুষ সেগুলো দেখছে এবং সচেতন হচ্ছে। এমন কোনো সেক্টর নেই, যেখানে আমরা কাজ করছি না। যতক্ষণ না ভোক্তারা সচেতন হচ্ছেন, ততক্ষণ শুধুমাত্র ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের অভিযান দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, যারা ব্যবসায়ী তাদেরকে মানবিক হতে হবে। এসময় তিনি বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাসহ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার কথাও তুলে ধরেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা সভায় অনুষ্ঠিত প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহপরিচালক এসব কথা বলেন।
ক্যাব প্রতিনিধি, চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সদস্য, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে এই সভার আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক এ কে এম গালিভ খাঁন।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেনÑ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম ও অপস) রোকনুজ্জামান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ, কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল হান্নানসহ অন্যরা।
ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জান্নাতুল ফেরদৌস তাদের কর্মকা- তুলে ধরেন। সভা সঞ্চালনা করেন উপপরিচালক আতিয়া সুলতানা। সূচনা বক্তব্য দেন সংস্থাটির রাজশাহী কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ সেলিম।
আলোচনা সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলামসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিপ্তর জেলা কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মাসুম আলীসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সোনামসজিদ স্থলবন্দর পরিদর্শন শেষে মহাপরিচালক এ.এইচ.এম. সফিকুজ্জামান সোনামসজিদ স্থলবন্দরের আমদানিকারক-রপ্তানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন।
মতবিনিময় সভায় সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে বিভিন্ন পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে নানারকম সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেনÑ শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল হায়াত, শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চৌধুরী জোবায়ের আহাম্মদ, সোনামসজিদ স্থলবন্দর পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেডের ম্যানেজার মাইনুল ইসলামসহ আমদানি-রপ্তানিকারক, ব্যবসায়ী ও স্থলবন্দর সংশ্লিষ্টরা।