আবারো ‘খুফিয়া’র শুটিং ফ্লোরে বাঁধন

0

নেটফ্লিক্সে বিশাল ভরদ্বাজের ‘খুফিয়া’র টিজার প্রকাশের পর বাঁধন-জ¦রে ভুগছে বাংলাদেশ। শিগগিরই এটি উন্মুক্ত হচ্ছে বিশ্বের নামজাদা এই ওটিটি প্ল্যাটফর্মে। তবে তার আগেই ঢাকা থেকে হঠাৎ মুম্বাইয়ে উড়াল দিলেন এই অভিনেত্রী। না, ‘খুফিয়া’র প্রমোশন প্ল্যানে অংশ দিতে নয়, আবার নতুন কোনও প্রজেক্টও নয়। বাঁধন ফের যুক্ত হচ্ছেন ‘খুফিয়া’র শুটিং ফ্লোরে। কারণ, তার আরও দু’দিনের শুটিং বাকি! মুম্বাই থেকে বললেন, ‘রিলিজ ডেট দুই তিন দিনের মধ্যে চূড়ান্ত হবে। এরমধ্যে আমাকে জরুরি কলে আসতে হলো। এখানে দুদিনের শুটিং বাকি আছে।’ অনেকেই জানেন, আলোচিত এই ছবির কাস্টিং নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার ঢেউ উঠেছিল গত আগস্ট-সেপ্টেম্বরে। দেশের অনেক শীর্ষ অভিনেত্রী বিশাল ভরদ্বাজের মতো বলিউড জয় করা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্মাতার এই প্রস্তাব ফিরিয়েছেন! কারণ হিসেবে প্রত্যেকেই বলার চেষ্টা করেছেন, ‘এই চরিত্রটি খুবই সেনসিটিভ। বিশেষ করে বাংলাদেশ তথা দেশপ্রেমের প্রেক্ষাপটে।’ সেজন্যই প্রস্তাবটি লোভনীয় হলেও তারা ফেরাতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু কানফেরত ‘রেহানা’ ঠিকই কাছে টেনে নিলেন বিশালকে।গত সেপ্টেম্বরেই রেহানা মরিয়ম নূর ওরফে মুসকান জুবেরী নাম লেখালেন সরাসরি বলিউড খাতায়! তাও আবার টাবুর মতো অভিনেত্রীর সঙ্গে! বিশাল-টাবুর সঙ্গে ইউনিট শেয়ার করা প্রসঙ্গে বাঁধনবলেন, ‘ছবিতে আমার চরিত্র একজন বাংলাদেশি মেয়ের। এটা একটা বই অবলম্বনে তৈরি হচ্ছে। বাট ফিকশনাল ক্যারেক্টারও আছে। ডেফিনেটলি আমার চরিত্রটা খুবই ভালো লেগেছে। ওটা না হলে তো করতাম না। এ ধরনের চ্যালেঞ্জিং চরিত্রই আমি এখন খুঁজছি। এটাও তেমনই। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই, বিশালের মতো ডিরেক্টরের সঙ্গে কাজ করার জন্য বলিউডের বড় বড় স্টাররাও মুখিয়ে থাকেন।’ যোগ করেন, ‘এই ছবিতে যুক্ত হওয়ার পেছনে আরেকটি কারণ টাবু। তিনিও বড় একটা ফ্যাক্টর এই ছবির।

আমার তার ক্যারিয়ারগ্রাফ খুব পছন্দ। মনে হলো কখনোই তিনি ¯্রােতে গা ভাসানো মানুষ না। মনে হয়েছে, তার সঙ্গে যখন স্ক্রিন শেয়ারের সুযোগ হয়েছে সেটাও বড় একটা যুক্তি। আর এই ধরনের ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ শেখার জন্য মানুষ দূর থেকেও বসে থাকে। দেখে দেখে শেখে। সেখানে সরাসরি কাজ করার সুযোগটি কাজে লাগাতে চেয়েছি। এমন সুযোগ তো সচরাচর মেলে না। এই অভিজ্ঞতা আমার সামনের জীবনে কাজে লাগবে।’ কিন্তু ছবিটিতে বাঁধনের চরিত্রটি আসলেই কতটা নেতিবাচক কিংবা দেশের বিপক্ষে কতটুকু যাবে; সে বিষয়ে এখনই মুখ খুলতে নারাজ। প্রশ্ন ছিল, ছবিটি মুক্তির তো বেশি দেরি নেই। সমালোচনার জবাব দিতে প্রস্তুতি কেমন নিলেন। তাছাড়া টিজার প্রকাশের পর আপনার প্রতি দর্শকদের আগ্রহটাও বেড়েছে কয়েকগুণ! ফলে মুক্তির পর সেটির প্রতিধ্বনিটাও আসবে সেই মাপে।

জবাবে বাঁধন বলেন, ‘রিলিজের আগেই যদি এই প্রশ্ন করেন, তাহলে তো হলো না। তাছাড়া এই বিষয়টি নিয়ে কিছু বলতে চাই না আমি। আগে রিলিজ হোক। মানুষ দেখুক। একটি সিনেমার একটি চরিত্রে অভিনয় করার মানে তো অপরাধ কিছু নয়। অভিনয় তো অভিনয়ই। সেই চরিত্রটি আমি কতটা প্রপারলি পোট্রে করতে পেরেছি, সেটাই হোক সমালোচনার বিষয়।’বরং ‘খুফিয়া’কে এই অভিনেত্রী দেখছেন তার অভিনয় জীবনের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি জার্নি হিসেবে। বললেন, ‘শুধু বলিউড প্রজেক্টে কাজ করা না। কাজটা করতে পারার যে মানসিক শক্তি দরকার, সেটা আমি দেখাতে পেরেছি। এটা আমার জীবনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

কিন্তু একইভাবে তো ‘রেহানা মরিয়ম নূর’র ইউনিট থেকে বেরিয়েও বলেছিলেন বাঁধন! যদিও এর জবাবে স্পষ্ট ভাষায় বাঁধন বললেন, ‘রেহানার সঙ্গে আমি আমার জীবনের কোনও প্রজেক্টের তুলনা করবো না। ওটা আমার কাছে সবচেয়ে আলাদা। ওটার সঙ্গে আর কিছুর তুলনা হবে না।’ মুম্বাই থেকে বাঁধন ঢাকায় ফিরছেন ৫ অথবা ৬ সেপ্টেম্বর। তখনই ছবিটির মুক্তিসহ নানা বিষয়ে আরও বিস্তারিত বলার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি। নেটফ্লিক্সের জন্য সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে অমর ভূষণের বই ‘এসকেপ টু নোহোয়ার’ অবলম্বনে। যেখানে বাংলাদেশের বাঁধনের সঙ্গে অভিনয় করেছেন বলিউডের টাবু, আশিষ বিদ্যার্থী, আলি ফজল প্রমুখ।