আফগানিস্তানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধে হতাশ নারী শিক্ষার্থীরা

4

আফগানিস্তানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন নারী শিক্ষার্থীরা। আফগানিস্তানের টোলো নিউজ জানিয়েছে, গত আগস্টে তালেবান দেশটির ক্ষমতাগ্রহণের পর আফগানিস্তানের সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যায়। তবে, এর কিছুদিন পরই দেশটির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পুনরায় চালু হয়। তালেবান সরকারের সঙ্গে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ইউনিয়নের একটি চুক্তির পর সেগুলো কার্যক্রম শুরু করেছিল। আহমেদ খান নানগারহার প্রদেশের একজন শিক্ষক। তিনি জানান, তাঁর তিন মেয়ে নানগারহার বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি, প্রকৌশল ও সাহিত্য বিভাগে পড়াশোনা করছিল। কিন্তু, তালেবান ক্ষমতায় আসার পর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের পড়াশোনাও বন্ধ হয়ে গেছে। নানগারহারের শিওয়া জেলায় বসবাসকারী তরুণী কেরিশমা টোলো নিউজকে বলেন, তিনি ও তাঁর ছোট বোন (জালা) গত বছর নানগারহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং ও সাহিত্য বিভাগের প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। কিন্তু এখনও তাঁরা ক্লাসে যেতে পারেননি। কেরিশমা বলেন, ‘আমি ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে চান্স পেয়েছি। বছর শেষ হয়ে গেল, কিন্তু আমি এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারিনি। কেরিশমার বোন জালা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমাদের স্বপ্ন ম্লান হয়ে গেছে। আমার মতো সব মেয়েরাই ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত।

আশা করি, শিগগিরই মেয়েদের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়া হবে।’ কেরিশমা ও জালার বড় বোন জিবা বলেন, ‘দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দেওয়া উচিত। কারণ, নারীদের মধ্যে অনেকের কোনো উপার্জনকারী নেই। তাঁরা পড়াশোনা করেছেন নিজেদের পরিবারের হাল ধরতে।’ এদিকে, কেরিশমাদের বাবা আহমেদ খান বলেন, অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তিনি তাঁর মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় সবার পড়াশোনাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আহমেদ খান আরও বলেন, একটি সমাজ ও দেশের অগ্রগতির ভিত্তি হলো শিক্ষা। যখন শিক্ষার প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়, তখন সমাজের বিকাশ থেমে যায়। তাই দ্রুত দেশটির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দিতে তালেবান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বন্ধ হওয়ার আগে নাঙ্গারহার বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫ হাজারের মতো শিক্ষার্থী পড়াশোনা করতেন। এঁদের মধ্যে ছাত্রীসংখ্যা ছিল অন্তত তিন হাজার। তাঁরা সবাই এখন পড়াশোনার বাইরে। তবে, তালেবান সরকারের উচ্চতর শিক্ষা বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী সম্প্রতি কাবুলে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, খুব শিগগিরই ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় পুনরায় খুলে দেওয়া হবে।