আন্তর্জাতিক মে দিবসের তাৎপর্য ও আমাদের বর্তমান

92

gourbangla logo১৮৮৬ সালের আমেরিকার হে মাকের্টে শ্রমিকদের অধিকারের জন্য যে আন্দোলন হয়েছিল তা যুগে যুগে কালে কালে বিশ্ব মাঝে মর্যাদার সাথে সমাদৃত। আজকের এই পহেলা মে আমাদের জাতির জীবনে তথা সমগ্র বিশ্বের মানব জাতির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ। মানুষ তার অধিকারের কথা বলবে, অধিকার নিয়ে চলবে। কারণ সৃষ্টির ভেতর মানুষের চেয়ে আর কার আছে এ বিবেক, এ ন্যায়-অন্যায়ের বিচার শক্তি? একমাত্র মানুষই এ সমগ্র বিশ্বের সৃস্টির শ্রেষ্ঠ জীব।
‘জগতের মাঝে সেই বেশী চায় যার আছে ভুরি ভুরি।’ মানুষ একদিকে যেমন শ্রেষ্ঠ, অন্যদিকে ঠিক তেমনি পশুরও অধম। কারণ মানুষের আছে রিপুর তাড়না। এই তাড়নায় মানুষ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত খুঁজে ফেরে তার স্বার্থের জয়। সেখানে সে তার হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে শুধু নিজেকে নিয়েই ভাবতে থাকে। অন্যের অধিকারের প্রতি সে তার চোখ ফিরিয়ে রাখে। দুই শত বছর আগের সেই আন্দোলন যেন এখনো কড়া নাড়ে আমাদের দোড়ের গোড়ে। এখনো লাখ লাখ শ্রমিক কত না নির্যাতনের শিকার হচ্ছে সারা বিশ্বে তার হিসাব কে রাখে? মানুষকে আজও মানুষ পণ্য হিসাবে ব্যবহার করে। ব্যবহারে নির্যাতনে কত না মৃত্যু হাতছানি দিয়ে ডাকে তার খবর আমরা কতজনই বা রাখি? রাখলেও তার প্রতিকারের জন্য আমরা ক’জনই বা এগিয়ে আসি? শ্রমিকের কাজ দেয়ার নামে হাজার হাজার গরীব জনগণ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। পথে পথে মৃত্যুর আহাজারিতে ভারি হয়ে আসে আকাশ বাতাস। না খাইয়ে নির্যাতন করে কত লোকের প্রানের বিনাশ ঘটলো খবরের কাগজে পড়ে আমাদের শরীর শিউরে উঠে। মালেশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া ইত্যাদি দেশে যেখানে সেখানে বাঙালি শ্রমিকের লাশ আমাদের বিচলিত করে। ঘুমের মধ্যেও যেন ভয়-আতঙ্কে কেঁপে উঠি আমরা সাধারণ মানুষ। এ দেশের দরিদ্র চাষার দল এলাকা ভেদে খুব দরিদ্র। মানুষ স্বভাবত চায় তার দারিদ্রকে জয় করতে। এ জন্য সে যে কোন উপায় বেছে নেয়। আর এর সুযোগে কিছু অমানুষের দল সরলতার অপব্যবহার করে চলেছে। বিদেশে কাজ দেবার নামে হাজার হাজার সরল প্রাণ মানুষকে সমুদ্রে কেটে ভাসিয়ে দেয়া হচ্ছে। আর যারা কোন মতে বেঁচে তীরে ভীড়ছে তারা মানবেতর জীবন যাপন করছে। তারা কেউ পালিয়ে জীবনে রক্ষা পাচ্ছে। কিন্তু তাদের বেশির ভাগকেই প্রাণে মেরে ফেলা হচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে এই অবস্থা চলে আসছে। শিক্ষার অনগ্রসরতা এবং সচেতনতার অভাব এই অবস্থার অন্যতম কারণ।

আরব দেশে আমাদের বাঙালি মেয়েরা অনেকেই নির্যাতনের শিকার। যৌন নির্যাতন থেকে শুরু করে মানসিক, শারীরিক সব ধরণের নির্যাতনের শিকার হয় আমাদের বাঙালি মেয়েরা। শ্রমের নামে এ ধরনের নির্যাতন আমাদের মানব জাতির জন্য সত্যিই লজ্জাকর। মানুষ মানুষের কাছ থেকে সবকিছু চায়, তার যতটুকু পায় তার কাছে সে কৃতজ্ঞ নয় বরং উল্টো তাকে নানা নির্যাতনের শিকার হতে হয়।
আজকাল আমাদের বাসাবাড়িতে অনেক শিশু শ্রমিক নানা ভাবে নির্যাতনের শিকার হয়। তাদের যৌন নির্যাতন করে হত্যা করতেও দ্বিধা নেই তাদের। এ রকম শিশু থেকে নিয়ে যুব-যুবা, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা সকলেই নানা কায়দায় হরহামেশাই নির্যাতনের শিকার হচ্ছে যা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজে দেখে আসছি। আমরা এর প্রতিকার চাই। এজন্য সরকারের যথাযথ আইনই প্রয়োগ থাকা প্রয়োজন। নিরবে নিভৃতে শ্রমিকের উপর শোষণ-নির্যাতন, তাদের চোখের জল যেন আমাদের দু:খের সাগরে ভসিয়ে না নিয়ে যায়। সকল বিদেহী লড়াকু শ্রমিকের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শেষ করছি।
লেখক: সহকারি শিক্ষক (ইংরেজি), হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।