আধুনিক পিকনিক স্পট দক্ষিণ শহর পার্ক

480

SAM_2347কর্ম ব্যস্ততার ভিড়ে প্রতিটি মানুষ চাই একটু বিনোদন। কিন্তু এই যান্ত্রিক জীবনে যেন ঘুরে বেড়ানো কাজের জন্য প্রায় বন্ধ হবার উপক্রম। তবুও সেই কাজের ফাঁকেই সময় বের করে দুরে কোথাও ঘুরাঘুরি বা বনভোজন যেন পরম শান্তি এনে দেয় মনে-প্রাণে। ঘুরতে কে না ভালোবাসে ? কেউ বন্ধু বান্ধব নিয়ে ঘুরে, কেউ ঘুরে পরিবারের সকল সদস্যদের নিয়ে। কেউ বা ঘুরে বেড়াই প্রিয়তমার হাতটা ধরে। চাঁপাইনবাবঞ্জ শহরে হাতে গোনা কয়েকটি বিনোদন স্পট বা পিকনিক স্পট রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে যেটির কথা বলব সেটি হচ্ছে শহরের অদুরে সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের এরশাদ নগর এলাকার দক্ষিণ শহর পার্কের কথা। স্থানীয়দের মুখে মুখে এখন এই পার্কের নাম। স্থানীয়রা এমপি ওদুদ পার্ক নামেই এটিকে এখন ডেকে আসছে। শহরের মানুষ ছাড়াও অন্যান্য স্থানের লোকজন আসছে এই পার্কে। শীতের এই সময়টাতে মানুষ বেশি বনভোজন করে। ভ্রমন পিপাসু মানুষ শীত উপেক্ষা করেই ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করেণ। গত শুক্রবার জেলার অন্যতম বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির উদ্যোগে বনভোজনে গিয়ে এমন চিত্রই দেখা মেলে এই পার্কে। দুর দুরান্ত থেকে শতশত মানুষ এখানে বনভোজনে এসেছেন। কেউ অটো রিকশায়, কেউ বাস ভাড়া করে, কেউ মটরসাইকেলে, কেউ বা দল বেধে পায়ে হেঁটে। তিল ধারনের ঠাঁই ছিল না এই পার্কে। ছুটির দিন শুক্রবার হবার কারণে ভিড় ছিল লক্ষ্যনীয়।
আধুনিক এই পার্কে বনভোজনের জন্য কর্তৃপক্ষ সকল ব্যবস্থা ইতিমধ্যে তৈরি করেছেন। বিদ্যুৎ, পানি, টয়লেটসহ বসার জন্য টিনসেড ঘরও তৈরি করেছে কর্তৃপক্ষ। শিশুদের জন্য রয়েছে নানা রকম খেলার ব্যবস্থা। কি নেই এই পার্কে। বর্তমানে এই পাকের্র কাজ চলছে। দিনে দিনে আরও উন্নয়ন ঘটবে এই পার্কের সেটা দেখলেই বুঝা যায়। আধুনিক এই পার্কে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির পশু, পাখি। যা এই পার্কের অন্যতম আকর্শন দর্শনার্থীদের জন্য। এখানে রয়েছে হরিণ, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, বানর, ঘোড়া, খড়গোশসহ আরও নানা প্রজাতির প্রাণী। শিশুরাতো বটে, বড়রাও যা দেখে মুগ্ধ হচ্ছে। এটা নিশ্চিত ভবিষ্যতে এই পার্ক আরও ব্যাপক হারে ব্যাপ্তি ঘটবে সকল ক্ষেত্রে। পার্কের যাবার রাস্তাও পিচঢালা পথ। মোটকথা সব দিক দিয়ে এই দক্ষিণ শহর পার্ক এখন মানুষের মুখে মুখে। কাজেই আর দেরি না করে যারা ঘুরতে বা বনভোজন করতে ভালোবাসেন তারা চলে যান এই পার্কে। অত্যান্ত নিরিবিলি পরিবেশ আপনার হৃদয় ছুঁয়ে যাবে। আমরা আশা করি ধীরে ধীরে এই দক্ষিণ শহর পার্কের নাম সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে। আর এই পার্কের মাধ্যমে আরও পরিচিতি পাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ।