আজ মহান মে দিবস

139

gourbangla logoআজ মহান মে দিবস। মেহনতি মানুষের আন্তর্জাতিক সংহতি প্রকাশের এক ঐতিহাসিক দিন। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে মে দিবস নামে অভিহিত প্রতি বছর ১লা মে তারিখে বিশ্বব্যাপী উদযাপিত হয়। এটি আন্তর্জাতিক শ্রমিক আন্দোলন ও বামপন্থী আন্দোলনের উদযাপন দিবস। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শ্রমজীবী মানুষ এবং শ্রমিক সংগঠন সমূহ রাজপথে সংগঠিতভাবে মিছিল ও শোভাযাত্রার মাধ্যমে দিবসটি পালন করে থাকে। বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশে ১লা মে জাতীয় ছুটির দিন। আরো অনেক দেশে এটি বেসরকারি ভাবে পালিত হয় । ১২৯ বছর আগে ১৮৮৬ সালের পহেলা মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের ‘হে’ মার্কেটে শ্রমের উপযুক্ত মূল্য এবং দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে ধর্মঘট আহ্বান করে শ্রমিকরা। সে ডাকে শিকাগো শহরের তিন লক্ষাধিক শ্রমিক কাজ বন্ধ রাখেন। শ্রমিক সমাবেশকে ঘিরে শিকাগো শহরের হে মার্কেট রূপ নেয় লাখো শ্রমিকের বিক্ষোভ সমুদ্রে। এক লাখ পঁচাশি হাজার নির্মাণ শ্রমিকের সঙ্গে আরও অসংখ্য বিক্ষুব্ধ শ্রমিক লালঝা-া হাতে সমবেত হন সেখানে। বিক্ষোভের এক পর্যায়ে শ্রমিকদের ওপর পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালালে ১০শ্রমিক প্রাণ হারান। হে মার্কেটের ওই শ্রমিক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বে। গড়ে ওঠে শ্রমিক-জনতার বৃহত্তর ঐক্য। অবশেষে তীব্র আন্দোলনের মুখে শ্রমিকদের দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয় যুক্তরাষ্ট্র সরকার। ১৮৮৯ সালের ১৪ জুলাই প্যারিসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে শিকাগোর রক্তঝরা অর্জনকে স্বীকৃতি দিয়ে ওই ঘটনার স্মারক হিসেবে ১ মে ‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস’ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়। ১৮৯০ সাল থেকে প্রতি বছর দিবসটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ‘মেদিবস’ নামে পালিত হতে শুরু করে। আমেরিকা ও কানাডাতে অবশ্য সেপ্টেম্বর মাসে শ্রম দিবস পালিত হয়। সেখানকার কেন্দ্রীয় শ্রমিক ইউনিয়ন এবং শ্রমের নাইট এই দিন পালনের উদ্যোগতা। হে মার্কেটের হত্যাকান্ডের পর আমেরিকার তৎকালিন প্রেসিডেন্ট গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড মনে করেছিলেন পয়লা মে তারিখে যে কোন আয়োজন হানাহানিতে পর্যবসিত হতে পারে। সে জন্য ১৮৮৭ সালেই তিনি নাইটের সমর্থিত শ্রম দিবস পালনের প্রতি ঝুকে পড়েন।
আজ সরকারি ছুটি। সংবাদপত্র কার্যালয়ে ছুটি থাকায় শনিবার দেশে কোনো সংবাদপত্র প্রকাশ হবে না। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারসহ বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন ও এফএম ব্যান্ড বেতারগুলো বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করছে। সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র ও নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের জন্য ব্যাপক কর্মসূচি নিয়েছে সরকার। এবারের মে দিবসের প্রতিপাদ্য ‘শ্রমিক-মালিক ঐক্যগড়ি, সোনার বাংলা গড়ে তুলি’। দিবসটি উপলক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। মে দিবসে রাজধানীর সড়কগুলো সজ্জিত করা হয়েছে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড দিয়ে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক, শ্রমিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক দল ও সংগঠন মে দিবস উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। কর্মসূচিতে আছে-পতাকা উত্তোলন, শোভাযাত্রা, লালপতাকা মিছিল, শ্রমিক সমাবেশ, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গণসঙ্গীত, নৃত্যানুষ্ঠান, নাটক, কবিতা পাঠ, আলোকচিত্র, চিত্র প্রদর্শনী ইত্যাদি।