আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেই আইনি ব্যবস্থা : শিবগঞ্জে বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভায় জেলা প্রশাসক

14

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে সামনে রেখে বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে প্রচারণা চালানোর আহ্বান জানানো হয়।
মঙ্গলবার সকালে শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জুরুল হাফিজ।
মঞ্জুরুল হাফিজ তার বক্তব্যে সকল প্রার্থীকে নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেই আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। নির্বাচন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু করতে সরকার আমাদের যে ক্ষমতা দিয়েছে তা যথাযথ প্রয়োগ করা হবে। তিনি আচরণবিধির বিস্তারিত তুলে ধরে আরো বলেন, কেউ আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে সেক্ষেত্রে প্রশাসন জিরো টলারেন্স দেখাবে। কাউকে কোনো প্রকার ছাড় দেয়া হবে না। কোনোভাবেই নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করবেন না। তিনি বলেন- প্রার্থীরা আচরণবিধি মেনে চলে প্রশাসনকে সার্বিক সহযোগিতা করলে প্রশাসনও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা নির্বাচন অফিসার মো. মোতাওয়াক্কিল রহমান জানান, এরই মধ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়োগ করা হয়েছে। মাঠে কোনো প্রার্থীর দ্বারা আচরণবিধি লঙ্ঘিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি জানান, নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নে ২৬ নভেম্বর মক ভোটের ব্যবস্থা করা হবে (ইভিএমে ভোট প্রয়োগ বিষয়ে হাতেকলমে শেখানো)।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাকিব-আল-রাব্বির সভাপতিত্বে সভায় উপজেলা নির্বাচন অফিসার তাসিনুর রহমান, সমাজসেবা অফিসার কাঞ্চন কুমার দাসসহ নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় প্রতিদ্বর্ন্দ্বী প্রার্থীগণ তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমাধানের আশ্বাস দেয়া হয়।
প্রসঙ্গত, গত ১১ নভেম্বর রাতে বিনোদপুরে হামলা পাল্টা হামলায় ৩টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও ৮ জন আহত হবার পর গত ১৪ নভেম্বর ছত্রাজিতপুর এলাকায় একটি নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
উল্লেখ্য, আগামী ২৮ নভেম্বর ৩য় ধাপের ইউপি নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ১৩ ইউনিয়নে ভোটগ্রহণের মধ্যদিয়ে নির্বাচন সম্পন্ন হবে। ২টি ইউনিয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ২ নৌকার প্রার্থী বিজয়ী হবার পর বাকি ১২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে ১২ জন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ৩৪ জন, একজন জাতীয় পার্টির ও একজন জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।