আইসিসি টেস্ট ব্যাটসম্যানদের র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে রুট

5

চূড়া থেকে খুব বেশি দূরে ছিলেন না। নিঃশ্বাস ফেলছিলেন শীর্ষে থাকা কেন উইলিয়ামসনের ঘাড়ে। ভারতের বিপক্ষে হেডিংলি টেস্টে সেঞ্চুরির সুবাদে নিউ জিল্যান্ড অধিনায়ককে টপকে গেলেন জো রুট। আইসিসি টেস্ট ব্যাটসম্যানদের র‌্যাঙ্কিংয়ে প্রায় ছয় বছর পর শীর্ষস্থানে ফিরলেন ইংলিশ অধিনায়ক। ইংল্যান্ড-ভারতের তৃতীয় টেস্ট ও আয়ারল্যান্ড-জিম্বাবুয়ের দুই টি-টোয়েন্টির পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে বুধবার র‌্যাঙ্কিংয়ের হালনাগাদ প্রকাশ করে বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্তা সংস্থা। ভারতের বিপক্ষে চলমান টেস্ট সিরিজে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন রুট। সিরিজ শুরু করেছিলেন তিনি র‌্যাঙ্কিংয়ে পাঁচে থেকে। প্রথম টেস্টে সেঞ্চুরি করে বিরাট কোহলিকে টপকে ওঠেন চারে। দ্বিতীয় ম্যাচে তার ব্যাট থেকে আসে আরেকটি শতরানের ইনিংস। যা তাকে সাহায্য করে স্টিভেন স্মিথ ও মার্নাস লাবুশেনকে ছাড়িয়ে দুইয়ে উঠতে। লর্ডস টেস্টের পর রুট শীর্ষে থাকা উইলিয়ামসন থেকে কেবল ৮ রেটিং পয়েন্ট দূরে ছিলেন। সিরিজের তৃতীয় টেস্টে একমাত্র ইনিংসে ১২১ রান করে তিনি পৌঁছে গেলেন চূড়ায়। ৯০১ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে কিউই ব্যাটসম্যান, ইংলিশ ব্যাটসম্যানের পয়েন্ট এখন ৯১৬। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে সবশেষ শীর্ষে ছিলেন রুট। সে সময় তাকে টপকে যান উইলিয়ামসনই। বিগত কয়েক বছরে শীর্ষস্থানে উঠেছেন কোহলি ও স্মিথও। এই চারজন ছাড়া টেস্ট ব্যাটসম্যানদের র‌্যাঙ্কিংয়ে সবশেষ শীর্ষে ছিলেন এবি ডি ভিলিয়ার্স, ২০১৫ সালের নভেম্বরে। ক্যারিয়ার সেরা রেটিং পয়েন্ট ৯১৭ থেকে কেবল এক পয়েন্ট দূরে রুট, ২০১৫ সালের অগাস্টে যেটা অর্জন করেছিলেন তিনি। ইংল্যান্ডের হয়ে তার থেকে বেশি রেটিং পয়েন্ট পেয়েছিলেন আর কেবল চার ব্যাটসম্যান- লেন হাটন, জ্যাক হবস, পিটার মে ও ডেনিস কম্পটন। এবারের হালনাগাদে ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের মধ্যে উন্নতি হয়েছে ররি বার্নস ও জনি বেয়ারস্টোর। পাঁচ ধাপ এগিয়ে ২৪তম স্থানে আছেন বার্নস, দুই ধাপ এগিয়ে ৭০ নম্বরে বেয়ারস্টো। আর দলে ফিরেই ৭০ রানের ইনিংস খেলা দাভিদ মালান আবার ঢুকেছেন র‌্যাঙ্কিংয়ে, আছেন ৮৮তম স্থানে। ব্যাটসম্যানদের তালিকায় অবনতি হয়েছে কোহলির। ভারত অধিনায়ক আরও এক ধাপ নিচে নেমে এখন ছয়ে। তাকে ছাড়িয়ে এক ধাপ এগিয়ে ক্যারিয়ার সেরা পাঁচে উঠেছেন রোহিত শর্মা। ১৯ ও ৫৯ রান করে ভারত ওপেনার ৭ রেটিং পয়েন্ট এগিয়ে কোহলির (৭৭৩) চেয়ে। র‌্যাঙ্কিংয়ে ভারতের হয়ে এখন রোহিত সবার ওপরে। কোহলি ব্যতীত দেশটির অন্য কারোর ওপরে থাকার ঘটনা এর আগে হয়েছিল ২০১৭ সালের নভেম্বরে, যখন দুইয়ে ছিলেন চেতেশ্বর পুজারা ও পাঁচে কোহলি। হেডিংলিতে দ্বিতীয় ইনিংসে ৯১ রান করা পুজারা এখন তিন ধাপ এগিয়ে আছেন ১৫ নম্বরে। রিশাভ পান্ত চার ধাপ পিছিয়ে গেলেও এখনও পুজারার ওপরেই আছেন, ১২ নম্বরে আছেন এই কিপার ব্যাটসম্যান। ইংল্যান্ডকে ইনিংস ব্যবধানে জয় এনে দেওয়ার পেছনে মূল অবদান রেখেছিলেন বোলাররা। র‌্যাঙ্কিংয়েও পড়েছে তাদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের প্রতিফলন। ম্যাচে ৪ উইকেট নিয়ে এক ধাপ এগিয়ে সেরা পাঁচে ফিরেছেন জেমস অ্যান্ডারসন। ম্যাচ সেরা হওয়া অলিভার রবিনসনের অগ্রগতি ৯ ধাপ। ৭ উইকেট নেওয়া এই পেসার এখন ৩৬তম। দুই ইনিংসেই তিনটি করে উইকেট নিয়ে র‌্যাঙ্কিংয়ে ঢুকেছেন ক্রেইগ ওভারটন, আছেন ৭৩ নম্বরে। ভারতের বোলারদের মধ্যে কেবল উন্নতি হয়েছে জাসপ্রিত বুমরাহর, নবম স্থানে উঠেছেন তিনি। এই তালিকায় আগের মতোই শীর্ষ চারে আছেন প্যাট কামিন্স, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, টিম সাউদি ও জশ হেইজেলউড। এক ধাপ নিচে নেমে ছয়ে আছেন নিল ওয়্যাগনার। টেস্ট অলরাউন্ডারদের র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানে আসেনি পরিবর্তন। যথারীতি সবার ওপরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জেসন হোল্ডার। এদিকে, টি-টোয়েন্টি ব্যাটসম্যানদের র‌্যাঙ্কিংয়ে এক ধাপ এগিয়ে ২৩তম স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন আয়ারল্যান্ডের পল স্টার্লিং। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুই ম্যাচে ২৫ ও ৬০ রান করা কেভিন ও’ব্রায়েন ৪২ থেকে ৩৯ নম্বরে উঠে এসেছেন। এই তালিকায় আগের মতোই শীর্ষে ইংল্যান্ডের দাভিদ মালান। বোলারদের র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানে যথারীতি আছেন দক্ষিণ আফ্রিকার তাবরাইজ শামসি। জিম্বাবুয়ের টেন্ডাই চাতারা পাঁচ ধাপ এগিয়ে সেরা একশতে ঢুকেছেন। আগের মতোই টি-টোয়েন্টির সেরা অলরাউন্ডার বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান।