অ্যাপল বিজ্ঞাপনী খরচ জানাবে না

63

04বিজ্ঞাপনে কতটা অর্থ খরচ করা হচ্ছে তা প্রকাশ করা বন্ধ করে দিয়েছে মার্কিন টেক জায়ান্ট অ্যাপল। কিন্তু কেন এমনটা করছে তা এখনও স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যবিষয়ক মার্কিন সাইট বিজনেস ইনসাইডার। চলতি বছর অক্টোবরে মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন-এর কাছে প্রতিষ্ঠানটি তাদের সর্বশেষ বাৎসরিক আর্থিক প্রতিবেদন দাখিল করে। এই প্রতিবেদনে বিজ্ঞাপন খাতে করা খরচের কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। অ্যাপলের বিজ্ঞাপনী খরচ আর আয়ের সঙ্গে এর অনুপাত জানাটা দরকারি ছিল জানিয়ে সাম্প্রতিক এক গবেষণা পত্রে এমন কাজকে ‘লজ্জাজনক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বিশ্লেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়েলস ফার্গো-এর বিশ্লেষকরা।
২০১৫ সালে অ্যাপলের বিজ্ঞাপনী খরচ ৫০ শতাংশ বেড়ে ১৮০ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। আর এর পরের বছরই এই খাতের তথ্য প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিল অ্যাপল। কিন্তু কেন অ্যাপল এই খাতের খরচের তথ্য প্রকাশ করা বন্ধ করল, তা নিয়ে সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদনটিতে কিছু বলেনি প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিবেদনটিতে ‘বিজ্ঞাপনী খরচ’ নামের এক বিভাগে অ্যাপল বলেছে, “বিজ্ঞাপনী খরচ বিক্রয়, সাধারণ ও প্রশাসনিক খরচের আওতায় ধরা হয়েছে।” মার্কিন সাইটটির মতে, ২০১৬ অর্থবছরে অ্যাপলের বিজ্ঞাপনী খরচ আরেকটি রেকর্ড গড়েছে আর শেয়ার প্রতি বিজ্ঞাপনী খরচের হিসাবেও প্রতিষ্ঠানটি বাড়তি খরচ করছে- এমন কারণেই তারা অংকটা জনসম্মুখে প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে, অ্যাপলের বিক্রয়, সাধারণ ও প্রশাসনিক খাতে অ্যাপলের খরচ আগের বছরের তুলনায় এক শতাংশ কমে ১৪১০ কোটি ডলার হয়েছে।  আর্থিক প্রতিবেদনে অ্যাপল বলে, “২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে বিক্রয়, সাধারণ ও প্রশাসনিক খরচ কমে যাওয়ার কারণ হচ্ছে বিবেচনামূলক খরচ, বিজ্ঞাপনী খরচ ও মাথাপিছু খরচও এ সম্পর্কিত অন্যান্য কমে যাওয়া।” কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য বিক্রয়, সাধারণ ও প্রশাসনিক খরচ থেকে বিজ্ঞাপনী খরচ আলাদা করে দেখানোর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। কিন্তু অ্যাপল এতদিন আলাদাভাবেই এ খরচ দেখিয়ে আসছিল। হঠাৎ এটি আলাদা করে না দেখাতে সিদ্ধান্ত নিল অ্যাপল। এ নিয়ে জানতে অনুরোধ করা হলেও অ্যাপল তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি বলে জানিয়েছে মার্কিন সাইটটি।