‘অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সচেতনতা বাড়াতে হবে’

14

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিশ^ অ্যান্টিবায়োটিক সচেতনতা সপ্তাহের উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার এ উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এবারের প্রতিপাদ- “অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সচেতন হই, সকলে মিলে এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স প্রতিরোধ করি।”
সিডিসি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ঢাকার সহযোগিতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিস সকাল ১০টায় র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করে। র‌্যালিটি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সিভিল সার্জনের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাহমুদুর রশিদ। আরো বক্তব্য দেন, ২৫০ শয্যাবিশষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. মাসুদ পারভেজ, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর চাঁপাইনবাবগঞ্জের সহকারি পরিচালক মোছাম্মাৎ ফোয়ারা ইয়াছমিন, ২৫০ শয্যাবিশষ্ট জেলা হাসপাতালের গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা. সালমা আকতার জাহান পলি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মুসলেহ উদ্দিনসহ অন্যরা।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. শাহনাজ খাতুন।
বক্তারা বলেন, সারা বিশ্ব জুড়ে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স একটি জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসাবে দেখা দিয়েছে এবং জীবাণুসমূহ অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি তাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করেই চলেছে। জীবাণুসমূহ বহু প্রকার অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি প্রতিরোধী হয়ে পড়েছে। ফলশ্রুতিতে কম বা বেশী দামী সকল প্রকার অ্যান্টিবায়োটিক সংক্রমণ চিকিৎসায় অকার্যকর হয়ে যাচ্ছে; বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম নয়। উল্লেখ্য, “ওয়ার্ল্ড হেল্থ অ্যাসেম্বলি ২০১৫ সালে অ্যান্টমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স প্রিপার্ডনেসেস, সারভিল্যান্স অ্যান্ড রেসপন্স” এজেন্ডা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিশ্বব্যাপী জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ অ্যান্টিবায়োটিকের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকরণের উদ্দেশ্যে পলিসি ও নির্দেশিকা প্রণয়নসহ বিভিন্নধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
এমতাবস্থায়, অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের বিরূদ্ধে আন্তর্জাতিক উদ্যোগের পাশাপাশি জাতীয়পর্যায়ে ব্যবস্থা নেওয়া অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করে ইতোমধ্যেই কৌশলপত্র, কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, ক্লিনিক্যাল গাইডলাইন ইত্যাদি প্রণয়ন করেছে। অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স সহনীয় মাত্রায় আনয়নের জন্য চিকিৎসকসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা অতীব প্রয়োজন।
বক্তারা বিনা প্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন না করা, চিকিৎসকের পরামর্শে যারা সেবন করবেন তারা ডোজ সম্পূর্ণ করার ওপর গুরুত্বরোপ করেন। অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সকলকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।