অস্ট্রেলিয়ার হয়ে প্রতিরোধ গড়লেন মার্শ-স্মিথ

2

মধ্যাহ্ন বিরতির আগে আগুন ঝরালেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। বিরতির পর যোগ দিলেন মির হামজা। দুই পেসারের তোপে দিশেহারা অস্ট্রেলিয়ার হয়ে প্রতিরোধ গড়লেন মিচেল মার্শ ও স্টিভেন স্মিথ। দুজনের দৃঢ়তায় ঘুরে দাঁড়াল স্বাগতিকরা। মেলবোর্নে বক্সিং ডে টেস্টের তৃতীয় দিনের শুরুর ভাগে দাপট দেখিয়েছে পাকিস্তান। তবে দিনের বাকি অংশে মার্শ-স্মিথের জুটিতে লড়াইয়ে একটু এগিয়েই গেছে অস্ট্রেলিয়া। দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৪১ রানে এগিয়ে প্যাট কামিন্সের দল। প্রথম ইনিংসে তাদের ৩১৮ রানের জবাবে পাকিস্তান থেমেছে ২৬৪ রানে৷ দ্বিতীয় বার ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ উইকেটে ১৮৭ রানে দিন শেষ করেছে অস্ট্রেলিয়া। পার্থের মতো মেলবোর্নেও নব্বইয়ের ঘরে আটকা পড়েছেন মার্শ। ফিফটি ছুঁয়ে দিনের শেষ ওভারে ফিরেছেন স্মিথ।

তাদের আউট করে দিনের শেষ দিকে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে পাকিস্তান দলে। ৪ উইকেট বাকি রেখে খেলতে নেমে বৃহস্পতিবার ৭০ রান যোগ করে পাকিস্তান। শেষ স্বীকৃত ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ রিজওয়ান ফেরেন ৪২ রান করে। শেষ দিকে আমের জামালের অপরাজিত ৩৩ ও আফ্রিদির ২১ রানের সৌজন্যে কোনো রকম আড়াইশ পেরোয় সফরকারীরা। আগের দিন শেষ সেশনে দুর্দান্ত বোলিং করা ৪৮ রানে ৫ উইকেট নেন কামিন্স। ৫৭ ম্যাচের ক্যারিয়ারে এটি তার দশম ৫ উইকেট। এ ছাড়া ৪ শিকার ধরেন ন্যাথান লায়ন। ৫৪ রানের লিড নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিতীয় বলেই আফ্রিদির শিকার হন উসমান খাওয়াজা। অফ স্টাম্পে করা কিছুটা শর্ট লেংথ বল হালকা মুভমেন্টে বেরিয়ে যাওয়ার মুখে ছুঁয়ে যায় খাওয়াজার ব্যাটের বাইরের কানা।

সহজ ক্যাচ নেন রিজওয়ান। নিজের পরের ওভারে মার্নাস লাবুশেনের উইকেট পান আফ্রিদি। লেগ স্টাম্পের বাইরের বলে ব্যাট চালান লাবুশেন। হালকা ছোঁয়া লেগে বল জমা পড়ে রিজওয়ানের গ্লাভসে। এই উইকেটের সঙ্গেই দেওয়া হয় মধ্যাহ্ন বিরতি। বিরতির পর খেলা শুরুর জন্য প্রস্তুত ব্যাটসম্যান, বোলার, ফিল্ডাররা। কিন্তু টিভি আম্পায়ার রিচার্ড ইলিংওয়ার্থ লিফটে আটকা পড়ায় কিছুক্ষণ দেরিতে শুরু হয় খেলা। সেশনের তৃতীয় ওভারে পরপর দুই বলে ডেভিড ওয়ার্নার ও ট্রাভিস হেডকে ফেরান হামজা। পুল করতে গিয়ে বল স্টাম্পে টেনে আনেন ওয়ার্নার। ফুল লেংথ ডেলিভারি ভুল লাইনে খেলে হেডও খোয়ান স্টাম্প। ¯্রফে ১৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। তাদের বিপদ বাড়তে পারত আরও।

স্লিপে মার্শের ক্যাচ ছেড়ে দেন আব্দুল্লাহ শাফিক। সে সময় ২০ রানে ছিলেন মার্শ। জীবন পেয়ে নিজের সহজাত ব্যাটিংয়ে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন তিনি। অন্যপ্রান্তে ধৈর্য্যরে মূর্ত প্রতীক হয়ে ওঠেন স্মিথ। দুজনের জুটিতে বিপর্যয় সামলে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে স্বাগতিকদের লিড। ৭০ বলে চলতি সিরিজে নিজের তৃতীয় ফিফটি পূর্ণ করেন মার্শ। সম্ভাবনা জাগান সেঞ্চুরিরও। কিন্তু থামেন ৪ রান আগে। দিনের শেষ ঘণ্টায় হামজার অফ স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা মেরে স্লিপে ক্যাচ দেন তিনি। ১৩০ বলের ইনিংসে ১৩ চারে ৯৬ রান করেন মার্শ। তার বিদায়ে ভাঙে ১৫৩ রানের চতুর্থ উইকেট জুটি। এরপর অ্যালেক্স কেয়ারিকে নিয়ে ধীরগতিতে এগোতে থাকেন স্মিথ। ১৫৩ বলে পূর্ণ করেন ফিফটি। বিপদ ঘটে দিনের শেষ ওভারে। আফ্রিদির লাফিয়ে ওঠা বলে অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়ে যান স্মিথ। গ্লাভসে লেগে বল চলে যায় গালিতে। সহজ ক্যাচ নেন আঘা সালমান। সমাপ্তি ঘটে স্মিথের ১৭৬ বলে ৫০ রানের ইনিংসের।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ৩১৮
পাকিস্তান ১ম ইনিংস: (আগের দিন ১৯৪/৬) ৭৩.৫ ওভারে ২৬৪ (রিজওয়ান ৪২, জামাল ৩৩*, আফ্রিদি ২১, হাসান ২, হামজা ২; স্টার্ক ১৬-৩-৬৯-০, হেইজেলউড ১৬-৫-৪৩-১, কামিন্স ২০-১-৪৮-৫, লায়ন ১৮.৫-২-৭৩-৪, মার্শ ৩-০-১৬-০)
অস্ট্রেলিয়া ২য় ইনিংস: ৬২.৩ ওভারে ১৮৭/৬ (খাওয়াজা ০, ওয়ার্নার ৬, লাবুশেন ৪, স্মিথ ৫০, হেড ০, মার্শ ৯৬, কেয়ারি ১৬; আফ্রিদি ১৮.৩-২-৫৮-৩, হামজা ১৬-৬-২৭-৩, হাসান ১২-২-৩১-০, জামাল ১৩-২-৫২-০, সালমান ৩-১-৯-০)