অবৈধভাবে কেউ ভারতে যাবার চেষ্টা করবেন না : বিজিবির উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল কমান্ডার আনোয়ার শফিক

146

DSC04754 (Small)

বিজিবির রংপুর উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের আঞ্চলিক কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আনোয়ার শফিক বলেছেন, কাঁটা তারের বেড়া সীমান্ত শূন্যরেখা অতিক্রম করে অবৈধভাবে কেউ ভারতে যাবার চেষ্টা করবেন না। কারণ, অবৈধভাবে ভারতে যাবার চেষ্টা করা হলে সে দেশের সীমান্ত রক্ষীবাহিনী প্রতিহত করবে এবং কখনো কখনো প্রাণ হাণি ঘটারও আশংকা থাকবে। তাই কোনভাবেই শূন্যরেখা অতিক্রম করবেন না।
গত কাল বুধবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সীমান্ত এলাকা চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের বাকের আলী বিওপিতে বিজিবি আয়োজিত সীমান্ত অপরাধ, চোরাচালান ও মাদক প্রতিরোধে জনসচেতনতা-মূলক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপস্থিত সকলের উদ্দেশে কথা গুলো বলেন।
আনোয়ার শফিক বলেন-মাদক ও অবৈধ অস্ত্র চোরাচালানী, মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে বিজিবি জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। এদেরকে কোন ছাড় দেওয়া হবে না। সীমান্তে যারা অপরাধ করে তাদের প্রতিহত করতে বিজিবি সবসময় প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন- মাদক কখনই সমাজের মঙ্গল করে না, সমাজকে ধ্বংস করে, অবৈধ অস্ত্র পাচার সামজে অপরাধ বাড়ায় এবং সমাজকে অস্থির করে তোলে। তিনি বলেন-মানবপাচার একটি গর্হিত কাজ। তাই আপনারা কেউ অবৈভাবে দেশ ত্যাগ করবেন না। কারণ, তাতে প্রাণহাণি ঘটে। মালোশিয়া গামী বহুমানুষ দীর্ঘদিন সাগরে ভেসে না খেয়ে মারা গেছে এবং গণকবর থেকে অনেকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন-ভারত থেকে গরু পাচারও একটি অপরাধ। কিন্তু সীমান্তের লোকেরা তা মনে করে না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন-এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ভারত থেকে ৩১ হাজার কোটি টাকার গরু আসে। ফলে দেশী গরু ব্যবসা মার খাচ্ছে, দেশ প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই একটু সময় নিয়ে দেশী গরু পালনের উপর জোর দিতে হবে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আনোয়ার শফিক বলেন-এসব অপরাধের বিরুদ্ধে বিজিবির পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন করতে হবে। একাজে শিক্ষকদের ভূমিকা সব চেয়ে বেশি। সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এসময় তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে সীমান্ত এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের কথাও ভাবা হচ্ছে। চোরাচালানের মূল কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। বিজিবির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে আলোকিত সীমান্ত নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে রংপুর সেক্টরের অধিন তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং এই সেক্টরেও তা বাস্তবায়ন করা হবে।
বিশেষ অতিথি ছিলেন-জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর কবীর। তিনি বলেন, মাদক চোরাচালানীসহ সকল অপরাধীদের ব্যাপারে পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাবকে তথ্য দিন। প্রয়োজনে আমাদের জানান, আমরা মোবাইল কোর্ট করে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিৎ করবো। তিনি বলেন, শুধু যুব সমাজ নয় সমাজের সর্বস্তরের মানুষ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে।
মতবিনিময় সভায় অন্যানের মধ্যে বক্তব্য দেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মজিবুর রহমান পাটোয়ারী, সহকারী পুলিশ সুপার ওয়ারেশ আলী। এসময় উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী সেক্টরের নবাগত সেক্টর কমান্ডার কর্নেল জাকির হোসেন, সাবেক সেক্টর কামন্ডার কর্নেল ফেরদৌসুল শাহাব, সদর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার উজ্জ্বল কুমার ঘোষ প্রমুখ। মতবিনিময় সভা পরিচালনা করেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৯ বিজিবির পরিচালক আহমেদ জুনাইদ আলম খান।
মতবিনিময় সভায় সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন চরবাডাঙ্গা, নারায়নপুর, শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ স্থানীয় জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।