অবশেষে প্রথম জয়ের মুখ দেখল অস্ট্রেলিয়া

40

শেষ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রয়োজন ১১ রান। মিচেল স্টার্কের করা ওভারের প্রথম চার বলে সিঙ্গেলের সুযোগ থাকলেও নিলেন না আন্দ্রে রাসেল। পঞ্চম বলে ফুল টস পেয়েও হলো না চার-ছক্কা। শেষ বলটি অবশ্য ছক্কায় ওড়াতে পারলেন, তবে ততক্ষণে সব শেষ। নিজেই সব দায়িত্ব নিয়ে পেরে উঠলেন না রাসেল। সিরিজ হারার পর অবশেষে প্রথম জয়ের মুখ দেখল অস্ট্রেলিয়া। চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার জয় ৪ রানে। প্রথম তিন ম্যাচ জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আগেই নিশ্চিত করেছে সিরিজ জয়। সেন্ট লুসিয়ার ম্যাচে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতবার সকালে অস্ট্রেলিয়া ২০ ওভারে তোলে ১৮৯ রান।

ক্যারিবিয়ানরা যেতে পারে ১৮৫ পর্যন্ত। ক্যারিয়ার সেরা ব্যাটিং-বোলিং পারফরম্যান্স এক ম্যাচেই দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়ার নায়ক মিচেল মার্শ। ব্যাট হাতে ৪৪ বলে করেন ৭৫, বল হাতে ২৪ রানে নেন ৩ উইকেট। তার এমন অসাধারণ অলরাউন্ড পারফরম্যান্সও ভেস্তে যেতে বসেছিল শেষ দিকে। শেষ ২ ওভারে যখন ক্যারিবিয়ানদের প্রয়োজন ৩৬ রান, রাইলি মেরেডিথের ওভারে তিনটি ছক্কা মারেন ফ্যাবিয়ান অ্যালেন, একটি রাসেল। ওভার থেকে আসে ২৫ রান। তবে ওভারের শেষ বলে আউট হয়ে যান অ্যালেন (১৪ বলে ২৯)। ম্যাচের ফলে যে উইকেট রাখে বড় ভূমিকা।

নতুন ব্যাটসম্যান হেইডেন ওয়ালশের ওপর শেষ ওভারে ভরসা রাখতে পারেননি রাসেল। স্টার্কের গতিময় ইয়র্ক ও ফুল লেংথ একটির পর একটি বলে সিঙ্গেল না নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন বড় শটের। পঞ্চম বলে সুযোগও পান, কিন্তু ব্যর্থ হন ফুল টস কাজে লাগাতে। শেষ বলের ছক্কায় তাই লাভ হয়নি। ম্যাচের শুরুতে অস্ট্রেলিয়া ব্যাটিংয়ে নামে টস জিতে। দ্বিতীয় ওভারে হারায় তারা ম্যাথু ওয়েডকে।তবে তিনে নেমেই ধুন্ধুমার ব্যাটিং শুরু করেন মার্শ। ওশেন টমাসের এক ওভারে দুটি করে চার ও ছক্কা মারেন, ওভার থেকে আসে ২৫ রান। পরের ওভারে রাসেলের বলে তার ছক্কায় অস্ট্রেলিয়া পঞ্চাশ ছুঁয়ে ফেলে ৪.১ ওভারেই। আগের তিন ম্যাচে ব্যর্থ অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চও এদিন খুঁজে পান নিজেকে। মার্শের সঙ্গে গড়ে ওঠে তার দারুণ জুটি।
১৬ বলে ৪২ রান তোলার পর একটু ঠা-া হয়ে ২৪ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন মার্শ। এই সিরিজের আগে টি-টোয়েন্টিতে তার ফিফটি ছিল না একটিও। এবার তিন নম্বরে সুযোগ পেয়ে চার ম্যাচেই হয়ে গেল তিন ফিফটি। ফিঞ্চ পঞ্চদশ ফিফটিতে পা রাখেন ৩৪ বলে। ৬০ বলে দুজনের ১১৪ রানের জুটি শেষ হয় ফিঞ্চের বিদায়ে। লেগ স্পিনার হেইডেন ওয়ালশকে স্লগ করতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক বোল্ড হন ৩৭ বলে ৫৩ করে। এরপর থেকে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে ধার হারানোর শুরু।

ফিঞ্চকে আউট করার পরের বলে অ্যালেক্স কেয়ারিকে বিদায় করেন ওয়ালশ। একটু পরে মিচেল মার্শ আউট হন ৬ ছক্কায় ৪৪ বলে ৭৫ রান করে। ১১ ওভার শেষে যে দলের রান ১ উইকেটে ১২৪, সেই দল পরের ৯ ওভারে করতে পারে কেবল ৬৫ রান। সেটিও শেষ দিকে ড্যানিয়েল ক্রিস্টিয়ানে ১৪ বলে ২২ রানের সৌজন্যে। রান তাড়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরুটা হয় বিস্ফোরক। লেন্ডল সিমন্স ও একাদশে ফেরা এভিন লুইস উদ্বোধনী জুটিতে ৩০ বলে তোলেন ৬২ রান। ১৪ বলে ৩১ রান করা লুইসকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন অ্যাডাম জ্যাম্পা। সিরিজে এই লেগ স্পিনারের যা প্রথম উইকেট। আগের ম্যাচের নায়ক ক্রিস গেইল ও চারে নেমে আন্দ্রে ফ্লেচার ব্যর্থ এ দিন। সিমন্স ২৮ বলে ফিফটি ছুঁয়ে পরে একটু রয়েসয়ে খেলতে থাকেন। তবে টিকতে পারেননি শেষ পর্যন্ত। বিদায় নেন ১০ চার ও ২ ছক্কায় ৪৮ বলে ৭২ রান করে। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক নিকোলাস পুরান ও সিমন্সকে পরপর দুই বলে ফেরান মার্শ। ম্যাচ তখন হেলে অস্ট্রেলিয়ার দিকে। কিন্তু অ্যালেন আর রাসেল ঝড় তুলে আবার জমিয়ে দেন ম্যাচ। এরপর শেষ ওভারের সেই নাটক। তাতে জয়ের স্বস্তিতে মাঠ ছাড়ে অস্ট্রেলিয়া।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
অস্ট্রেলিয়া: ২০ ওভারে ১৮৯/৬ (ওয়েড ৫, ফিঞ্চ ৫৩, মার্শ ৭৫, কেয়ারি ০, হেনরিকেস ৬, টার্নার ৬, ক্রিস্টিয়ান ২২*, স্টার্ক ৮*; কটরেল ৪-০-৩১-০, টমাস ২-০-৩১-১, রাসেল ৩-০-২৫-১, আকিল ২-০-২৪-০, অ্যালেন ৪-০-৩১-১ ওয়ালশ ৪-০-২৭-৩, সিমন্স ১-০-১৬-০)।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২০ ওভারে ১৮৫/৬ (সিমন্স ৭৪, লুইস ৩১, গেইল ১, ফ্লেচার ৬, পুরান ১৬, রাসেল ২৪*, অ্যালেন ২৯, ওয়ালশ ০*; স্টার্ক ৪-০-৩৭-০, মেরেডিথ ৪-০-৫৭-১, বেহরেনডর্ফ ৩-০-২৪-০, ক্রিস্টিয়ান ১-০-২৩-০, জ্যাম্পা ৪-০-২০-২, মিচেল মার্শ ৪-০-২৪-৩)।
ফল: অস্ট্রেলিয়া ৪ রানে জয়ী।
সিরিজ: ৫ ম্যাচ সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে।
ম্যান অব দা ম্যাচ: মিচেল মার্শ।